বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

💢জেলেপাড়ার আর্তনাদ💢

Coder Boss / ২০০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১

সত্যজিৎ দাস,বাহুবল(সংবাদ প্রতিনিধি)

**___এক জেলেপাড়ার আর্তনাদের কাহিনী।

মানিক বন্দোপ্যাধায় তাঁর কালজয়ী উপন্যাস
“পদ্মা নদীর মাঝীতে” জেলে পাড়ার হতদরিদ্র মানুষের
উপর তথাকথিত ভদ্র সমাজের নিপীড়নের চিত্র আঁকতে গিয়ে বলেছিলেন —
*ঈশ্বর থাকেন ওই গ্রামের ভদ্রপল্লীতে,এই জেলে পাড়ায় তাকে খুঁজে
পাওয়া যাবেনা*। ঠিক এই উপন্যাসের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে ফেনী জেলার, সোনাগাজী উপজেলার “বিষ্ণুপুর” গ্রামের জেলে পাড়ায়। তারা প্রতিনিয়ত নির্যাতিত ও নিপীড়িনের শিকার হচ্ছেন,তাও একই ধর্মের উচু জাতের মানুষদের কাছ থেকে।

জেলেদের একটাই অন্যায় তারা ছোট জাতে জন্ম গ্রহণ করেছেন।💢জেলেপাড়ার আর্তনাদ💢

আমাদের হিন্দু ধর্মের আগে থেকেই জাত বৈষম্য ছিল
প্রখর ভাবে,এখন সময়ের সাথে সাথে এর বিলুপ্ত হলেও,এই গ্রামে তার কোন কিছুই পরিবর্তন হয়নি। উল্টো এই কুসংস্কার ধর্মকে বিভক্ত করছে চরমভাবে।
সুতারাং পেশা,জাতি,বর্ণ,ধর্ম,লিঙ্গ,জাতের যত শ্রেণী আছে। এসব নিয়ে যত কুসংস্কার আছে,ভুল ধারণা আছে তা সমাজ থেকে বিলীন করে দেওয়াই প্রকৃত শিক্ষিতদের কাজ। এখানে আপনারা যদি নিজেদের সভ্য বলে দাবি করেন, শিক্ষিত ও জ্ঞানী ভাবেন, আধুনিক ভাবেন, তবে পুরাতন প্রথা ও কুসংস্কারকে মন থেকেও সমাজে থেকে বাদ দিতে হবে।

কিন্তু নিজেকে ভাববেন আধুনিক,আর পুরানো নিয়মে আচরণ করবেন!!। 💢জেলেপাড়ার আর্তনাদ💢

আপনারা সত্যিকারের আধুনিক নয় সত্যিকারের শিক্ষিত নয়। শিক্ষা ও আধুনিকতার ব্যাখ্যা পরিবর্তন হয়। এক সময় যারা চন্দ্র সূর্য দেখে সময়, *তাঁরা দেখে অবস্থান বলতে পারত তারাই জ্ঞানী ও শিক্ষিত ছিল। কিন্তু এখন জ্ঞানী ও শিক্ষিত মানে সত্যকে গ্রহণ করা, কুসংস্কারকে বর্জন করা। আগে অসুখ হলে মানুষ ঘরে বসে থাকত,কিন্তু এখন ডাক্তারের কাছে যায়। ঘরে বসে থাকাটা ছিল কুসংস্কার আর সেটা আপনারা বাদ দিতে পারলেও, পেশাগত শ্রেণীর সামাজিক বৈষম্য কেনো বাদ দিবেন না। আর বাদ না দিলে তো পুরানো কুসংস্কার ও প্রথাই মানলেন। আর এগুলো মানলে তো আধুনিক ও শিক্ষিত হতে পারলেন না আপনারা।

আসুন পুরাতন এসব প্রথা ও কুসংস্কারকে বাদ দেই আমরা সকলে, তবে পুরানো যেসব প্রথা ভাল আছে, তা অনুসরণ করি। কারণ পুরানো মানেই খারাপ নয়। আর বর্তমানে যেসব শ্রেণী বৈষম্যের সৃষ্টি করতেছেন ও পালন করতেছেন,এরকম হলে সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এগুলো মেধা ও শ্রমের যথাযথ মূল্যকে অস্বীকার করে।

আমাদের গ্রামে ১০০ টা জেলে পরিবার আছে
তাদের চলাফেরা করার একমাত্র সম্বল ছিলো এই রাস্তা,কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই ভদ্রসমাজের বেশ কিছু উচ্চপদস্থ মানুষদের জন্য আজও রাস্তাটি আদিম যুগে পড়ে আছে। বিষ্ণুপুর গ্রামের মানুষরা গত ৪-৫ বছর যাবত উপজেলা পরিষদ,জেলা পরিষদ,দৌড়াদৌড়ি করে,হাড় ভাঙা চেষ্টার পরেও এই রাস্তা মেরামত,মাটি ফেলে প্রসস্থ করন,পূননির্মাণ বা ইট ঢালাইও করতে পারেনি। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও এর কোন সমাধান হয়নি,যা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়।

গ্রামে বর্ষাকালে খাল,ঢুবা ও পুকুরের পানিতে জেলে পাড়ার রাস্তা ও ঘর পর্যন্তও ডুবে যায়।
জেলে পাড়ার পুরুষেরা জীবিকা নির্বাহ করার জন্য কাজে যেতে পারেননা,ছোট ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করার জন্য বিদ্যালয়ে যেতে পারেনা।

সেই গ্রামের যুবক ও অসহায়দের বিপদের বন্ধু,মানবতার ফেরিওয়ালা *বাবু সাগর দাস* সিলেট নিউজ24 কে আরও বলেন যে,*আমার মতে এই ভদ্র সমাজ ধর্ম ও দেশের জন্য কলঙ্ক,তারা ২০২১ সালে এই আধুনিক পৃথিবীতে এসেও উঁচুনিচু জাতের পার্থক্য খুঁজে,শিক্ষিত হয়ে তাহলে কি লাভ?,যদি হৃদয়ে মনুষ্যত্ব না থাকে,যদি মানবিকতা না থাকে।শিক্ষিত থেকে সুশিক্ষিত হওয়া খুব জরুরি,শিক্ষিত থেকে মানুষ হওয়া খুব জরুরি,আমি চাই এই ১০০ জেলে পাড়া দ্রুত মুক্ত হোক এই বৈষম্যে থেকে,এই রাস্তা যেনো ইট ঢালাই বা পাকা করন করা হয়, এর জন্য প্রসাশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন