সত্যজিৎ দাস:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার সংখ্যা ছিল ১০১টি। আর চট্টগ্রামে ৩ জন শনাক্ত। তবে এই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,নতুন শনাক্ত সবাই রাজধানী ঢাকা মহানগরের বাসিন্দা। এর আগের দিন (৯ জুন) ৪১টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছিল।
এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৬০ জনে। একই সময়ে নতুন করে দুইজন সুস্থ হয়েছেন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৮ জনে।
এদিকে,চট্টগ্রামে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে,আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৪৪ জনের পরীক্ষা শেষে ৩০ বছর বয়সী এক মহিলার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর আগে সোমবার (৯ জুন) চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে ২৩ জনের করোনা পরীক্ষা করে দুইজনের শরীরে এ ভাইরাস পাওয়া গেছে। এরমধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের একজনের বয়স ৭৫ বছর ও অন্যজনের ৫৫ বছর। আক্রান্ত তিনজনই শহরের বাসিন্দা।
সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন,‘আক্রান্ত তিন জনের মধ্যে গতকাল দুইজনের করোনা শনাক্ত হয় এবং আজ এক মহিলার করোনা শনাক্ত হয়েছে। তিনজনই মোটামুটি ভালো আছেন। তারা আমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এরমধ্যে গতকালের দুইজন বাড়ি ফিরে গেছেন।’
ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে সরকার।
বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। সোমবার (৯ জুন) রাতে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান তার ফেসবুক পেজে এই নির্দেশনার কথা জানান।
মাউশির পাঁচ দফা নির্দেশনা:
১) নিয়মিত হাত ধোয়া: সাবান ও পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে।
২) মাস্ক ব্যবহার: ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।
৩) জনসমাগম এড়িয়ে চলা: ভিড়ভাট্টা ও জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৪) সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা: আশপাশে কেউ আক্রান্ত থাকলে তার থেকে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
৫) হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার: হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু বা কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতে হবে এবং অপরিষ্কার হাত দিয়ে মুখ, চোখ,নাক স্পর্শ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় দেশের আন্তর্জাতিক প্রবেশপথগুলোতেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
১) আগত যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে থার্মাল স্ক্যানার ও ডিজিটাল থার্মোমিটার।
২) স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত মাস্ক, গ্লাভস এবং পিপিই সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া,করোনা উপসর্গ দেখা দিলে বাসায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যারা সন্দেহ করছেন তারা করোনা আক্রান্ত হতে পারেন, তাদের আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর ০১৪০১-১৯৬২৯৩-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,জনসচেতনতাই করোনার নতুন ধরন মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সংক্রমণ রোধে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
সিলেট নিউজ/এসডি.