সিলেট নিউজ ডেস্ক :
শিশুকে জোর করে মোটা-তাজা করার নামে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে এক মাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, শিশুটির বাবা লন্ডনে অবস্থান করেন। ছোট্ট সন্তানটি মায়ের সঙ্গেই দেশে থাকত। নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলার সময় বাবার নজরে আসে শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। পরে ক্যামেরার ফুটেজে উঠে আসে হৃদয়বিদারক নির্যাতনের দৃশ্য।
ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটির দুই হাত স্যালাইনের ফিতা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। বড় কাঠের খুন্তি দিয়ে জোর করে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। খাওয়ানোর আগে ও পরে শিশুটিকে চড়-থাপ্পড় মারার দৃশ্যও দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটিকে প্রায়ই মারধর করা হতো এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে খাবার খাওয়ানো হতো।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনাটি সামনে আসার পর শিশু নির্যাতন ও অভিভাবকদের সচেতনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুকে সুস্থ রাখার চেয়ে অনেক অভিভাবক বাহ্যিকভাবে মোটা-তাজা দেখানোর বিষয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেন, যা কখনো কখনো শিশুর জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, মায়ের কোল যেখানে একটি শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে এই শিশুটির জন্য সেটিই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে অনিরাপদ স্থান। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অনেকে।