জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের জয়নগর কুশারাই গ্রামে এক প্রবাসীর মৃত্যুর ক্ষতের দাগ শুকাতে না শুকাতেই জমি ও ভিটেমাটি দখলের উদ্দেশ্যে পৈশাচিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার শিকার মিলাদ হোসেন (৩২) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল যুক্তরাজ্য প্রবাসী মরহুম মোঃ আব্দুল মতিন স্ত্রী শাহেদা বেগমকে নিয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু দেশে ফেরার কিছুদিন পর, ২৫ মে ২০২৬ তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর শোকে কাতর পরিবারটি যখন শোক সামলে ওঠার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই প্রবাসীর সহায়-সম্পত্তি ও জমি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তৎপর হয়ে ওঠে তার ভাতিজারা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রবাসীর মৃত আতাউর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং আব্দুল রকিবের ছেলে আলিফ নূর রহমান দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মরহুম আব্দুল মতিনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। অভিযুক্তরা প্রবাসীর স্ত্রী শাহেদা বেগমকে হত্যাচেষ্টা করলে তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন তার আত্মীয় মিলাদ হোসেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা মিলাদ হোসেনকে লক্ষ্য করে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর নিহত প্রবাসীর স্ত্রী শাহেদা বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে মামলা তুলে নিতে শাহেদা বেগমকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা শাহেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী মারা যাওয়ার পরপরই আসামিরা আমাদের জমি ও বসতবাড়ি দখলের পাঁয়তারা শুরু করে। তারা এখন আমার লোককে জমিতে কাজ করতে দিচ্ছে না এবং আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি বর্তমানে চরম আতঙ্কে আছি এবং প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করছি।
প্রবাসী শাহেদা বেগম জানান আমি আমার স্বামী কে নিয়ে দেশে আইছি।আমার স্বামী মারা যাইতেই,আমার বাসুর ও দেবর মিলে আমাদের বাড়ি দখল করার চেষ্টা করছে, দিন দুপুরে অস্ত্র নিয়ে আমার বাড়ি দখল করতে এসেছিল, মিলাদ নামের ছেলেকে কুপিয়ে জখম করে,।আমি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি বলছি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী কাছে দাবি আমাকে সহযোগিতা করুন।
মামলার বাদী শাহিদা বেগম বলেন, সন্ত্রাসী অলিউল্লাহ, আলীফনুর,রুবেলসহ ১০/১২ মিলে বাড়ির দখল করতে আসে, আমার ছেলেকে বাড়ির সামনে পেয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে, আমার ছেলে ওসমানী মেডিকেল মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে, আমি বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেছি।
এবিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অনিক পাল বলেন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি, মিলাদ হোসেন অবস্থা কারাপ, থানায় মামলা হয়েছে।তদন্তে চলছে।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানা অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানায়, লিখিত অভিযোগের মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।