শিরোনাম
কুমিল্লায় নারী কর্মচারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, তদন্তের দাবি বিশ্বম্ভরপুরে দেশ-বিদেশে থাকা সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ সিলেটে নারী নির্যাতন মামলার পলাতক আসামির বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চাইল পুলিশ সিলেটে হুমকির মুখে মামলা বাদী, নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিখোঁজ: সন্তানের সন্ধানে আকুল আবেদন ঈদুল আজহায় গরীব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান বিলকিস খন্দকারের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা শ্রীমঙ্গলে দুই চেক মামলায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনের সংবাদ সম্মেলন রামিশা সহ দেশজুড়ে ৭ শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে ছাতকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববন্ধন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য ও হাম প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ দাবি জনতার দলের
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

ছট পুজা কি ও তার গুরুত্ব।

Coder Boss / ৩৮২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual6 Ad Code

লোকপর্ব ছট আসলে বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত একটি উৎসব যেখানে ছট মাইয়া এবং সূর্য দেবের পূজা করা হয়। প্রথমে স্নান, তারপর খরনা এবং তৃতীয় দিনে অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য নিবেদন করা হয়। দীপাবলির ৬ দিন পর অর্থাৎ কার্তিক মাসের ষষ্ঠ দিনে মহাপর্ব ছট পালিত হয়। স্নান এবং ৩৬ ঘন্টা উপবাস এবং সূর্য দেবতা ও ছঠি মাইয়া পূজার মাধ্যমে উত্সব শুরু হয়। এই উৎসবটি সবচেয়ে কঠিন উৎসবগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়,যাতে ভুল করেও যদি কোনও ভুল হয়ে যায় তবে উপবাসের নিয়ম ভঙ্গ করা হয় ও অমঙ্গল হয়।

ছট বা ছঠ,ষষ্ঠী নামের অপভ্রংশ। মূলত সূর্য ষষ্ঠী ব্রত হওয়ার দরুণ একে ছট বলা হয়। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপাবলি পালনের পর এই চার দিনের ব্রতের (কার্তিক শুক্লা চতুর্থী থেকে কার্তিক শুক্লা সপ্তমী) সবচেয়ে কঠিন ও তাৎপর্যপূর্ণ রাত্রি হল কার্তিক শুক্লা ষষ্ঠী; বিক্রম সংবতের কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে এই ব্রত উদযাপিত হওয়ার কারণে এর নাম ছট রাখা হয়েছে।
ছট পূজা (বা ছঠ পূজা) হিন্দু বর্ষপঞ্জীর কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে উদযাপিত একটি প্রাচীন হিন্দু পার্বণ। সূর্য্যোপাসনার এই অনুপম লৌকিক উৎসব পূর্ব ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং নেপালের তরাই অঞ্চলে পালিত হয়ে থাকে। ধীরে ধীরে এই পার্বণ প্রবাসী ভারতীয়দের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত হয়েছে। ছট পূজা সূর্য্য ও তার পত্নী ঊষার (ছটী মাঈ) প্রতি সমর্পিত হয়, যেখানে তাকে পৃথিবীতে জীবনের স্রোত বহাল রাখার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও আশীর্বাদ প্রদানের কামনা করা হয়। ছটে কোনও মূর্তি পূজা করা হয় না।
এই পূজার কখন উৎপত্তি হয়েছিল তার কোনো স্পষ্ট নিদর্শন পাওয়া যায় না। কিন্তু কিছু পৌরাণিক আখ্যানে ছট পূজার নীতি নিয়মের সঙ্গে মিল থাকা উৎসব দেখা যায়। ঋগ্বেদের শ্লোকসমূহে সূর্য্যবন্দনার স্পষ্ট নিদর্শন আছে। ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে গ্রীক, রোমান, মিশরীয় ইত্যাদির সভ্যতাসমূহেও সূর্য্য মূখ্য দেবতা ছিলেন। সেভাবে ঊষাও বৈদিক দেবী। বেদে উল্লেখ থাকা মতে, তিনি হলেন পূর্বের দেবী এবং অশ্বিনীকুমারদের মাতা। অগ্নি, সোম এবং ইন্দ্র ইত্যাদি দেবতা সকলের পরে তিনি হলেন অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈদিক দেবী। রাত্রি হল তার ভগ্নী যাকে হয়তো পরে পৌরাণিক যুগে সন্ধ্যা এবং ছায়ারূপে কল্পিত করা হয়েছে। রামায়ণে উল্লেখ থাকা মতে, রামের কুলদেবতা সূর্য্যের জন্য রাম এবং সীতা এই পূজা করেছিলেন। মহাভারতে উল্লেখ থাকা মতে, দ্রৌপদী ধম্য ঋষির উপদেশ মতে সূর্য্যকে আরাধনা করে অক্ষয় পাত্র লাভ করেছিলেন। সঙ্গে মহাবীর কর্ণের কোমর পর্যন্ত জলে নেমে সূর্য্যের উপাসনা করা উল্লেখ আছে। আজও ছট পূজা উদ্‌যাপন করা সকল মানুষকে কোমর পর্যন্ত জলে নেমে সূর্য বন্দনা করতে দেখা যায়। অন্য এক আখ্যান মতে, পাণ্ডু ঋষি হত্যার পাপের প্রায়শ্চিত্তের কারণে পত্নী কুন্তীর সঙ্গে বনে থাকায় পুত্র প্রাপ্তির জন্য সরস্বতী নদীর পারে সূর্য্য উপাসনা এবং ব্রত করেছিলেন।

পুরাণ মতে, প্রথম মনু প্রিয়বতের কোনো সন্তান ছিল না। তাই তার পিতা কাশ্যপ মুনি পুত্রেষ্ঠী যজ্ঞ করতে পরামর্শ দেন। এর ফলে তার পত্নী মালিনী একটি মৃত পুত্র জন্ম দিলেন। মৃত শিশু দেখে তারাও বিলাপ করতে থাকায় আকাশ থেকে এক দিব্য কন্যা প্রকট হলেন। তিনি নিজকে ব্রহ্মার মানস পুত্রী বলে পরিচয় দিলেন এবং মৃত পুত্রকে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে সে জীবিত হয়ে উঠল। এখনও ঊষা দেবী বা ছটি মায়ের মূর্তি কোলে কিছু থাকা অবস্থায় কল্পনা করা হয় এবং পুত্র প্রাপ্তির জন্য ব্রত উপাসনা করা হয়।

তদুপরি লৌকিক দেবী হিসাবে অন্য বহু লোককথা আখ্যান হিসাবে মানুষের মুখে মুখে চলে আসছে।ভারতে সূর্য্যোপাসনার জন্য প্রসিদ্ধ পার্বণ হল ছট পূজা। এটি বছরে দুবার পালিত হয় — প্রথমবার চৈত্র মাসে (চৈতী ছট) এবং দ্বিতীয়বার কার্তিক মাসে (কার্তিকী ছট)। পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধি তথা মনোবাঞ্ছিত ফল লাভের জন্য এটি পালন করা হয়। নারী-পুরুষ সমানভাবে এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

ছট পূজায় কোনো মূর্তি উপাসনার স্থান নেই। এতে ডুবিত এবং উদিত সূর্যকে পূজা করা হয়। আজকাল পূজা অনুষ্ঠিত করা কমিটিগুলিকে সকল ঘাটের কাছে সূর্য এবং ঊষার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে দেখা যায়। পূজার দুদিন আগে লাউ ভাত এবং একদিন আগে খির ভাত খাওয়ার সঙ্গে ৩৬ ঘণ্টার এক কঠোর ব্রত পালন করতে হয়। পূজায় সম্পূর্ণ সাত্বিক নৈবেদ্য ইত্যাদি কুলো, ডলা বা পাচিতে রেখে উৎসর্গ করা হয়। বিভিন্ন ফলমূল, মিঠাই ইত্যাদির সঙ্গে পরম্পরাগত বিহারী লোকখাদ্য “ঠেকুয়া” প্রস্তুত করে নৈবেদ্যরূপে প্রদান করা হয়।এই সময় নুন-মশলাবর্জিত সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করা হয়। পূজার শেষে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীদের প্রসাদ বিতরণ এই পূজার অন্যতম নিয়ম। এই পূজায় অনেককে বাগরি নদীর ঘাটে গিয়ে পূজা করার দৃশ্যও দেখতে পাওয়া যায়।বর্তমানে এই পূজা এক সার্বজনীন রূপ পেয়েছে। বিভিন্ন ভাষাভাষী, ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ এই পূজার মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে পূজায় সামিল হতে শুরু করেছেন।
চারদিনের এই ব্রতের প্রথম দিনে ব্রতধারী বাড়িঘর পরিষ্কার করে স্নান সেরে শুদ্ধাচারে নিরামিষ ভোজন করেন (যাকে নহায়-খায় বলা হয়)। পরদিন থেকে উপবাস শুরু হয়; ব্রতী দিনভর নির্জলা উপবাস পালনের পর সন্ধ্যায় পূজার শেষে ক্ষীরের ভোগ গ্রহণ করেন (এটি খরনা নামে পরিচিত)। তৃতীয় দিনে নিকটবর্তী নদী বা জলাশয়ের ঘাটে গিয়ে অন্যান্য ব্রতীর সাথে অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য অর্থাৎ দুধ অর্পণ করা হয়। ব্রতের শেষদিনে পুনরায় ঘাটে গিয়ে উদীয়মান সূর্যকে পবিত্র চিত্তে অর্ঘ্যপ্রদানের পর উপবাসভঙ্গ করে পূজার প্রসাদরূপে বাঁশ নির্মিত পাত্রে সুপ, গুড়, মিষ্টান্ন, ক্ষীর, ঠেকুয়া, ভাতের নাড়ু এবং আখ, কলা, মিষ্টি লেবু প্রভৃতি ফল জনসাধারণকে দেওয়া হয়।

হিন্দু পুরান অনুসারে,ছটপুজো হল সূর্য পত্নী ছঠি মাইয়ার পুজো। ছট মাতাকে উষা বলা হয়। এই পুজোয় কোনও মূর্তি পুজো স্থাপন করা হয় না। ছট পুজোপ মাধ্যমে সূর্য দেবতা ও সূর্য পত্নী ছঠি মাইয়ার পুজোর করা হয়। ডুবিত এবং উদিত সূর্যকে পুজো করা হয় এই উৎসবে। তবে, আজকাল অনেক ঘাটে সূর্য ও উষার মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে থাকছেন। পঞ্জিকা মতে,চলতি বছর ১০ নভেম্বর ছটপুজো । ছটপুজোয় ৩৬ ঘন্টা কঠোর ব্রত পালন করতে হয়। জেনে নিন পুজোর নিয়ম-কানুন।
খরনাঃ- এ বছর ৯ নভেম্বর উদযাপিত হয়েছে খরনা। এদিন মহিলারা সারাদিন উপোস করে থেকেছেন । সন্ধ্যায় মাটির চুলায় গুড়ের ক্ষীরের প্রসাদ তৈরি করেন এবং তারপর এই প্রসাদটি সূর্যদেবকে অর্পন করা হবে। এরপর ছট শেষ হলেই উপবাস ভেঙে সকলে এই প্রসাদ খান।
ভগবান সূর্যের আরাধনাঃ- খনার পরের দিন সন্ধ্যায় মহিলারা নদী বা পুকুরে দাঁড়িয়ে সূর্যদেবের পুজো করেন।
ছট উৎসবের সমাপ্তিঃ- পুজো সমাপ্ত হবে ১১ নভেম্বর ২০২১। খনার পরের দিন ছট শেষ হয়। এই দিনে মহিলারা সূর্যোদয়ের আগে নদী বা পুকুরের জলে নেমে সূর্যদেবের কাছে প্রার্থনা করেন। এরপর উদীয়মান সূর্যদেবের পুজো করে এবং উপবাস ভঙ্গ করা হয়।
রীতিনীতিঃ- ছট পুজো করতে বিশেষ কিছু রীতি আছে। পুজোর শুরুর দিন বাড়ি পরিষ্কার করতে হয়। সেদিন সকলে নিরামিষ ভোজন করেন। এর পরদিন থেকে শুরু হয় উপোস। নির্জলা উপোস করে সন্ধ্যায় ক্ষীর ভোগ খান ভক্তরা। তৃতীয় দিন গঙ্গা বা নদীতে সূর্যদেবের পুজো করেন। সেদিনই পুজোর সমাপ্তি। এই পুজোয় প্রসাদ বিতরণের বিশেষ রীতি আছে। ছট পুজোর বিশেষ প্রসাদ ঠেকুয়া বিতরণ করা হয় সকলের মধ্যে।

Manual1 Ad Code

শারীরিক উপকারিতাঃ- ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে,ছটপুজোর যে আচার অনুষ্ঠান রয়েছে,তা শুধু ধর্মীয় উত্‍সবের অঙ্গ নয়।এগুলির রীতিমত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। ছট পুজোর বিভিন্ন আচার আচরণ স্বাস্থ্যের পক্ষেও অত্যন্ত উপকারী বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। উপবাস রাখার যেমন উপকারিতা আছে, তেমনই উদীয়মান এবং অস্তগামী সূর্যের প্রতি অর্ঘ্য নিবেদনও শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

Manual1 Ad Code

ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর ডিরেক্টর এনআর বিশ্বাস জানিয়েছেন যে,ছট পুজোর বিভিন্ন আচার আচরণের সঙ্গে আমাদের শরীরের রক্তচাপ, ব্লাড সুগার এবং ত্বকের সম্পর্ক রয়েছে। উপবাস করার ফলে পেটের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন তিনি। ছট পুজোর সব বিধি পালন করলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হবে। মানসিক স্বাস্থ্য ঝরঝরে হবে। উন্নত হবে হজম ক্ষমতা। ছট পুজো স্ট্রেস মুক্তিতেও সহায়ক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কোনও জলাশয়ে দাঁড়িয়ে উদীয়মান এবং অস্তগামী সূর্যের প্রতি অর্ঘ্য নিবেদনের ফলে শরীরে ভিটামিন ডি শোষিত হয়। ছট পুজোর আগে পুজোর যে প্রস্তুতি তার ফলে হাইজিন ব্যবস্থাও অনেকটা উন্নত হয়। শীতের মুখে ছট পুজো উদযাপনে শরীরের শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থাও অনেকটা উন্নত হয়।

সূর্যে দিকে তাকিয়ে নদী বা পুকুরের জলে ডুব দিয়ে স্নান করার ফলে শরীরে সৌর বায়োইলেকট্রিসিটি বেশি মাত্রায় প্রবাহিত হয়। এর ফলে আমাদের শরীর অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এছাড়া ছট পুজোর প্রসাদ বলতে প্রথমেই যে নামটা চোখে ভেসে ওঠে তা হল ঠেকুয়া। ঠেকুয়া তৈরিতে যা যা উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তাও অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। এছাড়া ছটের প্রসাদে থাকে কলা, নারকেল, লেবু। এর প্রতিটিই স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ছটের শেষ দিনে সূর্যোদয়ের অর্ঘ্য দেওয়ার আগে যে ৪৮ ঘণ্টার উপবাস রাখা হয়, তার আগে বিশেষ ভাবে তৈরি একটি ক্ষীর খাওয়ার প্রথা আছে। এই ক্ষীর খরনা নামে পরিচিত। এটিও শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে সাহায্য করে।

Manual2 Ad Code


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code