ফলো-আপ নিউজ:
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার হবিবনগরে সরকারি খাস জমিতে বসবাসকারী ৫টি অসহায় পরিবারকে বাঁশের বেড়া দিয়ে গৃহবন্দী করার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অবরুদ্ধ অবস্থার পুরোপুরি অবসান ঘটেনি। তবে এ ঘটনায় অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযুক্তদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেড়া অপসারণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসন নিজেই বেড়া গুঁড়িয়ে দেবে বলে জানানো হয়েছে।এদিকে গত দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোতে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঘর থেকে বের হতে না পেরে এবং যাতায়াতের পথ অবরুদ্ধ থাকায় পরিবারগুলো চরম খাদ্য ও পানি সংকটে দিনাতিপাত করছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা নদীর পানি খেয়ে এবং চিঁড়ে-মুড়ি বা কলা-রুটি খেয়ে কোনোমতে টিকে আছেন। অবরুদ্ধ পরিবারের শিশুরা স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে পারছে না।
ভুক্তভোগী হলুদা আক্তার ও সুমা আক্তার জানান, দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে তারা এই সরকারি খাস জমিতে (ইকড়ছই মৌজা) বসবাস করছেন। কিন্তু স্থানীয় ভূমিখেকো চক্র আশিক মিয়া ও আমির আলী গংরা জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে তাদের যাতায়াতের প্রধান মুখে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলে। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের প্রাথমিক আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, বেড়া পুরোপুরি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।অভিযোগ দায়েরের পর
উপজেলা প্রশাসন উভয় পক্ষকে নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন জানান, “আমরা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি আমলে নিয়েছি। আজ উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছে এবং বিবাদী পক্ষকে অবিলম্বে এই অবৈধ বেড়া তুলে নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি তারা এই নির্দেশ অমান্য করে বেড়া অপসারণ না করে, তবে আমি নিজেই পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাব এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বেড়া উচ্ছেদ করে পরিবারগুলোকে মুক্ত করব।”
প্রশাসনের এই আলটিমেটামের পর এখন দেখার বিষয় অভিযুক্তরা কত দ্রুত বেড়া অপসারণ করে। স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত মাঠে নেমে এই অসহায় ভূমিহীন পরিবারগুলোর মানবিক অধিকার ও যাতায়াতের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেবে।