জৈন্তাপুরে ব্যবসায়ীর টাকা-মোবাইল-মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ, পাওনা টাকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি::
সিলেটের জৈন্তাপুরে ব্যবসায়ী অলিউর রহমান সুমনের পথরোধ করে নগদ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিনজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুমনের মা মোছাঃ নেওয়া বেগম জৈন্তাপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের ঠাকুরের মাটি এলাকার চিকনাগুল মাদ্রাসা গেইটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে নেওয়া বেগম উল্লেখ করেন, তার ছেলে অলিউর রহমান সুমন ব্যবসায়িক কাজে শাহপরাণ থানাধীন বটেশ্বর বাজারের একটি এটিএম বুথ থেকে নগদ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। পরে তিনি কামরুল ও অপর এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল (রেজিঃ সিলেট-ল-১২-৬২০২) যোগে শুক্রবাড়ী বাজারের আবুল মার্কেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
চিকনাগুল মাদ্রাসা গেইট এলাকায় পৌঁছালে কামরুল ইসলাম, খালেদ আহমদ ও রায়হান আহমদসহ আরও কয়েকজন তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়। এ সময় খালেদ আহমদ সুমনকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে তার কাছে থাকা আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা, এবং ভিভো বি২৯, যার আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকা, নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া ১নং অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম সুমনের পকেট থেকে ব্যবসায়িক কাজে উত্তোলন করা নগদ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে অভিযুক্তরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে সুমন ও তার সঙ্গে থাকা কামরুলকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করেন এবং সুমনের ব্যবহৃত প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩নং সাক্ষী মোঃ শামছু মিয়া আহত সুমনকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত খালেদ আহমদ। তিনি জানান, সুমনের কাছে তাদের দীর্ঘদিনের একটি লেনদেন বাবদ ১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে সুমন সময়ক্ষেপণ করে আসছিলেন। সোমবার বাজারে সুমনকে পেয়ে পাওনা টাকা চাইলে তিনি বিভিন্ন তালবাহানা করেন।
খালেদ আহমদ বলেন, “তাকে বলা হয়েছিল, সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন রেখে যেতে এবং টাকা দিয়ে সেগুলো নিয়ে যেতে। এই কথা বলে সে সেখান থেকে চলে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সে না আসায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মছদ্দর আলী ও বিশিষ্ট মুরব্বি আব্দুল মুসাব্বির ফরিদকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তাদের পরামর্শে ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। বর্তমানে চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরীর জিম্মায় জিক্সার মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন রয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, সুমন আহমদ বলেন, “আমার কাছে কারও কোনো টাকা-পয়সা পাওনা নেই। অন্যায়ভাবে অতর্কিত হামলা করে আমার টাকা, মোবাইল ও মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, “তদন্ত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন বাদী মোছাঃ নেওয়া বেগম। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।