ছাতক(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ছাতকে কথিত চাঁদাবাজ আনোয়ার হোসেন রনি কর্তৃক ফেইসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে নিজের গ্রাম ও গ্রামের মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অপকর্মের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই গ্রামবাসি।
মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর-মাঞ্জিহারা গ্রামবাসির আয়োজনে গ্রামের রাস্তায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, আবদুল আউয়াল, আবদুল মছব্বির, ফরিদ উদ্দিন, আবদুল গফ্ফার, নিয়ামত আলী,
আবদুল কাহার ফকির প্রমুখ।
এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মকদ্দুছ আলী ও উস্তার আলী, মুরব্বী রজব আলী, আলা উদ্দিন, আবদুল হেকিম, আবদুল মুকিত, আবদুল কাহার,আলী আহমদ, সমুজ আলী, কাপ্তান মিয়া, ছাবুল মিয়া, ইমান আলী, গোলাম হোসাইন, হাফেজ নুর আহমদ, তকদ্দুছ আলী, ইসলাম উদ্দিন, আবুল হোসেন, কাওছার আহমদ, জামিল আহমদ, ফরিদ মিয়া, কিতাব আলী, জাবেদ আহমদ, আবুল বশর,
নাঈম আহমদ, তানভীর আহমদ, শাহ আলম, শরিফ উদ্দিন, দুলাল আহমদ, আবদুল মালিক, কালা মিয়া, কালা আহমদ, রুবেল মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুস ছোবহান খেছরা, নেছার আহমদসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গত ২৭ জুলাই গ্রামের পিডিবির একটি ট্রান্সমিটার বিকল হয়ে যায়। যে কারণে গ্রামের মানুষ ছিলেন অন্ধকারে। বিদ্যুৎ না থাকায় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় পড়ুয়া তাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ায় মারাত্বক ব্যাঘাত ঘটে। ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি উত্তোলন করতে না পেরে ব্যবহারিক পানিরও চরম সঙ্কটে ছিলেন গ্রামের মানুষ। আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষে গ্রামবাসীর জন্য একটি ট্রান্সফরমার বরাদ্দ দেন। এটি পাঠিয়ে দিয়ে স্থাপনের কাজ করছিলেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা, আনোয়ার হোসেন রনি নামের নামধারী কথিত চাঁদাবাজ সাংবাদিক ট্রান্সফরমার স্থাপনে বাঁধা দেন এবং এটি স্থাপনের জন্য তিনি ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। যে কারণে সে দিন বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারটি স্থাপন না করে তারা চলে যান।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিন পরে গোবিন্দগঞ্জ কলেজ গেইট এলাকায় উত্তেজিত জনতার হাতে লাঞ্ছিত হন কথিত ওই রঙিলা চাঁদাবাজ সাংবাদিক। ওইদিন সন্ধ্যায় ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবিতে কয়েকশ মানুষ সিলেট সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কের বুড়াইরগাঁও বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার কাছে এসে তাদের শান্তনা দিয়ে ট্রান্সফরমারের আশ্বাস দেন সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেল) শেখ মোরছালিন। ওইদিন রাতে দুই গ্রামবাসীর পক্ষে আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আউয়াল বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেন রনির বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয়নি। বা তার বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এদিকে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গত ৯ আগষ্ট বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তি করা হয়। আপোষের বিষয়টি পূঁজি করে নিজের পক্ষে নিজেই সাফাই গেয়ে মধ্যস্থকারী মুরব্বিদের আপোষ উপেক্ষা করে গ্রামবাসির বিরুদ্ধে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে উল্টো নি:শর্ত ক্ষমা চাওয়াসহ অসত্য মনগড়া কথাবার্তা নিউজ সাজিয়ে নিজের ফেইসবুক, একাধিক পোর্টালে প্রকাশ করে যাচ্ছে চাঁদাবাজ আনোয়ার হোসেন রনি।
তাদের দাবী মূলত নিজের দোষ ঢাকতে গ্রামবাসী ও মুরব্বিদের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করেছে রনি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিউজ ছড়ানোর কারণে সংবাদ সম্মেলনে তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ওই চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে দায়েরি এজাহারটি মামলা হিসেবে অন্তর্ভূক্তি করে শাস্তির দাবি করা হয়। এছাড়াও তারা বলেন যুগান্তরের মতো প্রথম শ্রেনির একটি পত্রিকায় আনোয়ার রনির মতো চাঁদাবাজকে প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে কলঙ্কিত করেছে। স্থায়ী ভাবে তাকে বহিস্কার করে সংবাদপত্রের মানকে সমোন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।