স্টাফ রিপোর্টারঃ
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্পষ্ট বদলির আদেশ থাকার পরও টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ছাড়ছেন না হিসাব সহকারী মোঃ মাহফিজুর রহমান। আদেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি এখনো ঘাটাইল অফিসেই কর্মরত রয়েছেন। সরকারি নির্দেশনার এমন প্রকাশ্য উপেক্ষায় স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে নানা গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত সরকারি অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ হারুনর রশিদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে (স্মারক নম্বর: ৩৮.০১.৯৩০০.০০০.১৯.০০২.২৬-১৪৩৫) হিসাব সহকারী মোঃ মাহফিজুর রহমানকে ঘাটাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে গোপালপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বদলি করা হয়।
আদেশের ২ নম্বর শর্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, বদলিকৃত কর্মচারীকে আগামী ০৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ০৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে তিনি তাৎক্ষণিক কর্মমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।
আজ ০৮ আগস্ট হয়ে গেলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মোঃ মাহফিজুর রহমান জেলা শিক্ষা অফিসারের সেই আদেশ অমান্য করে এখনো ঘাটাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেই বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি আদেশ জারির পর নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও কেন তিনি অবমুক্ত হননি বা গোপালপুরে যোগ দেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক জানান, বদলির আদেশ হওয়ার পরও একজন কর্মচারীর এভাবে একই স্টেশনে থেকে যাওয়া নিয়মবহির্ভূত। এর পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি বা প্রশাসনিক অদক্ষতা কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঘাটাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সরকারি আদেশ অমান্য করে একই কর্মস্থলে রয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।