সত্যজিৎ দাস:
দেশ-বিদেশে পরিচিত শিল্পী রাহুল আনন্দ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ৭ আগস্ট একটি আবেগঘন পোস্টে ২০২৪ সালের ৭ আগস্টের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে দ্বিতীয়বার আগুনের ভয়াবহতা থেকে বেঁচে ফেরার সেই ঘটনা স্মরণ করে তিনি জানিয়েছেন,সেই সময়ের আতঙ্ক,অসহায়ত্ব ও মানবিকতার গল্প।
রাহুল আনন্দ লিখেছেন,২০২৪ সালের ৭ আগস্ট তিনি দ্বিতীয়বার আগুনের ভেতর থেকে স্ত্রী-পুত্রসহ বের হয়ে আসেন। এর আগে ৫ আগস্ট রাতে এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু দুই দিন পর সেই আশ্রয়ও নিরাপদ থাকেনি। ভবনের নিচের কলাপসিবল গেটে তালা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গ্যারেজে থাকা দুটি গাড়ি ও দ্বিতীয় তলায়ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি জানান,তারা ছিলেন ভবনের তৃতীয় তলায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। তীব্র গরমে মেঝেতে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়া কালো ধোঁয়াকে তিনি সবচেয়ে ভয়ংকর “দৈত্য” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পোস্টে রাহুল আনন্দ বলেন,ধোঁয়ার কারণে তার শিশুপুত্রের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল। সেই ভয়াবহ মুহূর্তে বন্ধুর কন্যার সাহস ও সহযোগিতায় তারা অলৌকিকভাবে রক্ষা পান। ওই কন্যাকে তিনি এখন নিজের সন্তানের মতো মনে করেন এবং তার কাছে সারাজীবনের ঋণ স্বীকার করেন।
ভয়াবহ সেই সময়ের একটি মুহূর্ত স্মরণ করে তিনি লেখেন,কালো ধোঁয়ার মধ্যে তার স্ত্রী উর্মিলা অসহায় কণ্ঠে বলেছিলেন,”রাহুল,আমি আর পারছি না।”
পরে কয়েকজন বন্ধুর সহায়তায় তারা অন্য একটি আশ্রয়ে চলে যান। রাহুল আনন্দ জানান,এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি নবম আশ্রয়ে আছেন। নিজের ঘর এখনো তৈরি করতে পারেননি, তবে মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বাউলের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন,এই প্রথম তিনি এসব ঘটনা লেখা শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে সব সত্য ঘটনা তুলে ধরবেন বলেও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, সত্য না জানালে পূর্বপুরুষ ও আগামী প্রজন্মের কাছে তিনি দায়ী থাকবেন।
রাহুল আনন্দের এই পোস্টে উঠে এসেছে এক শিল্পীর ব্যক্তিগত বেদনা,ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং কঠিন সময়ে মানুষের মানবিকতার এক হৃদয়স্পর্শী গল্প।
সিলেট নিউজ২৪/এসডি.