অথই নূরুল আমিন:
দেশের জনগণ পুরাদমে বানর খেলা দেখার দর্শক। এদিকে প্রতিদিন ঘটছে মুখরোচক সব ঘটনা। তা নিয়ে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ, আলোচনা – সমালোচনা। এখানে চলছে কথার পরে কথা। এসব করে করে সমগ্র জাতির কপাল হলো মন্দ। যেন নিজের পায়ে কুড়াল মারা।
তবে কথা থাকে যে, এসব ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে অর্থাৎ যারা ঐ সকল গুজব কথা ছড়াছড়ি করে যাচ্ছে। বিগত চুয়ান্ন বছর ধরে। তারা কিন্তু যুগে যুগে বেশ ভালোই সময় পার করে যাচ্ছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়। আমরা অনেক সময় নিজেদের কাজ কর্ম স্থগিত করেও সেই আলোচনায় অংশ নিয়ে থাকি। কে কারে কি বলল।
আজকের কথা বা এই চলমান সময়ের কথা যদি বলি। যেমন বতর্মান বিএনপি সরকার বেশকিছু কাজে তারা আজকে অসক্ষম। এই যে অসক্ষম। এরকম একটা বিষয় যখন নিবিড়ে জনগণ চিন্তা করবে বা ভাববে। বা বিএনপি এতো আসন কিভাবে পেলো? বিএনপি কি সত্যি সত্যি পাঁচ বছর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে?
এরকম ভাবনা ভাবার আগেই বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা এই সরকারের ইখতিয়ার নেই। বাহ্। সঙ্গে জামায়াত এনসিপিসহ এগারো দলীয় জোটের শুরু হলো চিৎকার। এদিকে দেশের সাধারণ জনগণ বসে গেলো হাট বাজার ও রাস্তার চায়ের দোকানে শুরু হয়ে গেলো আলোচনা সমালোচনা।
এর মধ্যে সরকার জনগণের কাছে ইচ্ছে মতো বিতর্কিত হতে লাগলো বিদ্যুত গ্যাস ও পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে। আইনশৃঙ্খলার অবস্থা তো খারাপ চলছেই। সেদিন সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আইনশৃঙ্খলার অবস্থার এতো অবনতি কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলীয় এমপিদেরকে ছাত্র বানিয়ে দিলেন। বিরোধী দলের এমপিরা ওয়াকআউট করলেন। আবার শুরু হলো জনগণের মাঝে সেই চুলছেড়া বিশ্লেষণ।
এর মধ্যে গত সপ্তাহে বিরোধী দলের নেতৃত্বে হয়ে বিশাল শোডাউন মানে লং মার্চ। তা নিয়ে চলছ আবার তুমুল বাকযুদ্ধ। বিএনপি নেতারা ও দলীয় সমর্থকেরা তাদের দলের পক্ষে। বিরোধী দলীয় নেতারা তাদের পক্ষে। সরকার দলীয় নেতারা বলছে সরকারের কোন ব্যর্থতা নেই। বিরোধী দলীয় নেতারা বলছে সরকারের সরকারের চরম ব্যর্থতা রয়েছে।
এদিকে ফেসবুকে প্রচার আর প্রচার শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসবেন। এই নিয়ে সেই জনগণের মাঝে চলছে আলোচনা – সমালোচনা। পক্ষে বিপক্ষে। তাও আবার রাতদিন। যারা যে দল করে। তাদের কাছে সেই দলেই উত্তম। এরকম আলোচনা প্রায় সব জায়গায়। আমাদের সমাজের রাজনীতিটা এমন হয়ে গেছে। কেউই কিন্তু সুস্থ নেই এমন কথা আজকে বলাই যায়।
যেখানে দেশের একটা বৃহৎ অংশ মনে করছে শেখ হাসিনাই সঠিক দেশ পরিচালনা করেছিলেন। এখানে দেশের বড়ো একটা সেই শেখ হাসিনাকে খুনি ফ্যাসিস্ট বলে সবসময় প্রচার করে যাচ্ছে। যেখানে জামায়াতের আমীর এগারো দলীয় জোটের সবার কাছে প্রিয়। সেখানে আওয়ামী লীগের ভক্তরা সবসময় কটাক্ষ করে যাচ্ছে।
দেশের সবাই তারেক রহমানকে ভালো বলছে এমনটি নয়। তবে তাদের দলের সবার কাছেই তিনি প্রিয় অতি প্রিয়। এই যে জুলাই আন্দোলন। তা নিয়েও জামায়াত এনসিপির জনপ্রিয়তা বেড়েছে অনেক। তারপরও এক শ্রেণির জনগণ আজও জামায়াত এনসিপির কাউকেই পছন্দ করছে না। এসব বিষয় নিয়েও চলছে নানারকম আলোচনা – সমালোচনা। দেশের জনগণ আজকে অনেকেই নিজের জীবন নিয়ে জীবনের স্বপ্ন নিয়ে এমনকি নিজের পরিবারের ভবিষ্যত নিয়ে যে ভাববে। তাও ভুলে গেছে অনেকেই।
এই যে প্রতিদিনকার নিত্য ঘটনা। নিত্য নিত্য সব দুর্ঘটনা। এসব নিয়েই চলছে গল্প আর গল্প। গতকাল সংসদে রুমিন ফারহানা এমপি সরকারকে নিয়ে গ্যাস ভিদ্যুত স্যার বিষয় দুই চার কথা বলেছেন। সঙ্গে সঙ্গে দেশের জনগণ পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনা শুরু করে দিয়েছেন। এই কথার রেষ কাটতে না কাটতেই আরেকজন আরেক কথা হয়তো বলবেন। তখন আবার শুরু হবে সেই গল্প।
এদিকে সালাউদ্দিন, টুকু ভিপি নুর, প্রার্থ এবং রাশেদকে নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা। তবে পক্ষের চেয়ে বিপক্ষের সমালোচনাই বেশি। গত সাত মাস আগেও জেবু নামের একটা বিড়াল নিয়েও কিন্তু আলোচনা কম হয়নি। এছাড়া ভারত পাকিস্তান আমেরিকা নিয়ে তো সমালোচনা আছেই। তবে নিশ্চিত করে বলা চলে। আমাদের সমাজে বানর খেলার দর্শকই বেশি। আমরা অকাজে বেশি সময় নষ্ট করতেই অব্যস্থ হয়ে পরেছি। কি আমাদের ভবিষ্যত, কিবা ভবিষ্যত গোটা জাতির? আমাদের আগামী প্রজন্মর জন্য বা আমরা কি রেখে যাচ্ছি। এসব ভাবনা আজকে কারো মাঝেই দেখছি না। পরনিন্দা পরচর্চা গীবত গুজব এই চলছে সবসময়।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক