আজ ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : বিকাল ৫:২৯

বার : রবিবার

ঋতু : হেমন্তকাল

উজিরপুরের সেই মহান করোনা যোদ্ধা ও মানবতার ফেরিওয়ালা ওসি জিয়া আজ করোনায় আক্রান্ত।।

জাকির হোসেন, (বানারীপাড়া) বরিশাল।। পুলিশ জনতার বন্ধু। জনগনের নিরাপত্ত্বার জন্য চাকুরীর পুরোটা সময়ই তাদের পাশে থাকে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। আর সেই পুলিশ বাহিনীর এক কর্মকর্তা ওসি জিয়াউল আহসান। বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল আহসান একজন মানবদরদী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সর্ব মহলে পরিচিতি অর্জণ ও সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি সর্বদা জনগনের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দিতেন। দেশ প্রেম মানব প্রেম , পেশাদারিত্ব , দায়িত্ব বোধ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সর্বোপরি এলাকার শান্তি, স্থিতি এবং আইন শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখায় বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জণ করা এ পুলিশ কর্মকর্তা দেশে প্রাণঘাতি কোভিড-১৯ নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ’র শুরু থেকে এর বিরুদ্ধে সন্মূখ সারির যোদ্ধা হিসেবে লড়াইয়ে অবর্তীণ হন। তিনি তার পুলিশ বাহিনীকে সাথে নিয়ে সর্বদা করোনা প্রতিরোধে সর্বত্র বিচরন করেছেন। তিনি মৃত্যুকে পরোয়া না করে মৃত্যু ও ভয়কে জয় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগীদের দাফন -কাফনের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি করোনা রোগীদের বাড়ি লকডাউন করা, কর্মহীন হত দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া ও সচেতন করা সহ নানা ভাবে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমন ও করেছেন লোক লজ্জার ভয়তে যারা ক্ষুদার্থ থেকে ও কাউকে কিছু না বলে গৃহে বন্ধী অবস্থায় রয়েছেন তাদের খোজ খবর নিয়ে রাতের অন্ধকারে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে একাই হাজির হয়েছেন ঐ সকল ব্যক্তিদের দরজায়। মহা দূর্যোগ মুহুর্তে এলাকাবাসীর পাশে সার্বক্ষনিক থাকার মানসে তিনি থানায় ‘ঘরবসতি’ গড়ে তুলেছিলেন। উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নের পীরেরপাড় নামক স্থানে রাস্তার পাশে বৃষ্টির মধ্যে সারা রাত ধরে পড়ে থাকা মধ্য বয়সী এক পাগলের লাশ করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে দাফন করতে যখন কেউ এগিয়ে আসছিলেন না ঠিক সেই মুহুর্তে খবর পেয়ে তিনি এগিয়ে গিয়ে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। এছাড়া করোনার মধ্যে উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের সোনারবাংলা বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে এক পাগলী সন্তান প্রসব করে। খবর পেয়ে সেখানে তিনি ছুটে গিয়ে ওই পাগলী মা ও তার নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।পরবর্তীতে ওই শিশুটিকে আগৈলঝাড়ায় বেবি হোমে রাখার ব্যবস্থা করে দেন তিনি।এমন মানবসেবার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে তার কর্ম জীবনে। ১৯ মার্চ লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি প্রিয়তমা স্ত্রী ও প্রিয় সন্তানদের স্নেহ ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করে ও নিজে বঞ্চিত হয়ে তাদের ঢাকার বাসায় ফেলে রেখে উজিরপুরে সার্বক্ষণিক অবস্থান করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি শনিবার জ্বর ও মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হন। ওই দিন তার নমুনা সংগ্রহ করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাবে পাঠানোর পরে রোববার রাতে তার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে। ‘মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত’ এ চৌকষ পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে থানায় নিজ ব্যাচেলর কোয়ার্টারে আইসোলেশনে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। তার এ অসুস্থতার কথা শুনে উজিরপুর ছাড়াও তার পুরনো কর্মস্থল বানারীপাড়া,বাবুগঞ্জ ও মুলাদী থানার মানুষও সমব্যথি। তার আশু সুস্থতার জন্য এসব এলাকার মানুষও দোয়া করছেন।এ প্রসঙ্গে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল আহসান বলেন দেশ ও মানুষের সেবা করার মহান ব্রতি নিয়ে পুলিশে চাকুরি নিয়েছি। করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি ‘মানুষ মানুষের জন্য’ মানবতার এ মহান ব্রতি নিয়ে। আমৃত্যু দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি তার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category