আজ ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৮:৪৭

বার : বৃহস্পতিবার

ঋতু : হেমন্তকাল

ধর্মপাশায় আওয়ামী লীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ।

এম এইচ লিপু মজুমদার ধর্মপাশা প্রতিনিধি ।। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক কৃষকদেরকে গুদামে ধান দেওয়া বাবদ তাদের কাছে টন প্রতি এক হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করার প্রতিবাদে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আরিফুর রহমান মজুমদার ওরফে দিলীপ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের লিখিত বক্তব্য ও গুদামে ধান নিয়ে আসা কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কখা বলে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের কৃষক সম্রাট মিয়াসহ ছয়জন কৃষক রোববার সকাল ১১টার দিকে নৌকা যোগে ধান নিয়ে এসে সরকারি ন্যায্যমুল্যে ধান বিক্রয়ের জন্য ধর্মপাশা খাদ্য গুদাম লাগোয়া নৌকা ঘাটে এসে উপস্থিত হন। একেকজন করে কৃষকের ধান গুদামের ভেতরে ঢোকানোর জন্য খাদ্য গুদাম চত্বরে এনে প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজ শুরু করা হয়।
ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে ওই খাদ্য গুদাম চত্বরে আসেন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি ইসহাক মিয়া, দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান চয়ন, দৈনিক সমকাল ও দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকার ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি এনামুল হক এনি, দৈনিক আমাদের সময় ও দৈনিক উত্তরপূর্ব পত্রিকার ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি সাজিদুল হক সাজু, দৈনিক যায় যায় দিন পত্রিকার ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি মিঠো মিয়া সহ ৭-৮জন সাংবাদিক। সেখানে থাকা কৃষকদের কাছে খাদ্য গুদামে প্রতিটন ধান দেওয়া বাবদ এক হাজার টাকা করে দেওয়ার দাবি করেন সাংবাদিক হাফিজুর রহমান চয়ন, সাংবাদিক এনামুল হক এনি ও মিঠো মিয়া। কৃষকেরা টাকা দিতে অসম্মতি প্রকাশ করায় সাংবাদিকরা তখন তাঁদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে গুদামের মিটার দিয়ে ধান মাপামাপির কাজ বন্ধ করে দেন। এ অবস্থায় কৃষক ও সাংবাদিকদের মধ্যে হট্রগুল দেখা দেয় । খবর পেয়ে ধর্মপাশা খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি তাঁর নিজ কার্যালয় থেকে খাদ্য গুদাম চত্বরে এসে কৃষকদের ধান মাপামাপি কার্যক্রম চালু করেন। কৃষকদের কাছ থেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি আরিফুর রহমান মজুমদার দিলীপ ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে যাই|
ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই চাঁদাবাজ সাংবাদিকরা সেখান থেকে দ্রুত চলে যায়। সেখানে পৌছে উচ্চস্বরে আমি বলেছি, বেআইনিভাবে কোনো কৃষককে হয়রানি করা যাবে না। যে সব সাংবাদিক অবৈধভাবে কৃষকদের কাছে চাঁদা দাবি করবে সেইসব চাঁদাবাজ সাংবাদিকদেরকে প্রয়োজনে নিজে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে দেব। এই উপজেলায় কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজি হতে দেব না। আমি, আমার ছোট ভাই দুজনই কৃষক।আমাদের দুজন ও খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডিকে জড়িয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে।
যা মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন । চাঁদার টাকা না পেয়ে তাঁরা এমনটি করেছে। ঘটনার তদন্ত করে এসব চাঁদাবাজ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সাংবাদিক হাফিজুর রহমান চয়ন বলেন, আমি ও আমার সঙ্গে থাকা সাংবাদিকরা কোনো কৃষকের কাছে টাকা চাইনি ও ধানের মাপামাপিও বন্ধ করিনি। এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মো. মুনতাসির হাসান বলেন,খাদ্য গুদামে সাংবাদিকরা ঢোকে কৃষকদের ধান মাপামাপি কাজ বন্ধ করেছেন বলে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category