শিরোনাম
সুবর্ণচরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির মতবিনিময় সাতক্ষীরার আশাশুনি বিভিন্ন সড়কে পুলিশের অভিযান চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্রেগুলিতে বিএনপির পক্ষ থেকে খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু হিলফুল ফুজুল তরুণ সংঘের সম্মানিত উপদেষ্টা যুক্তরাজ্যর প্রবাসী সামছুল আলম খান শাহীন মহোদয়কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় সাতক্ষীরা আশাশুনিতে মাদকের অপব্যবহার ও পাচার বিরোধী দিবস পালিত মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির বিএনপির ত্রান বিতরন বিহঙ্গ তরুণ সংঘের উদ্যোগে বন্যার্তদের মধ্যে নগদ অর্থ প্রাদন সুবর্ণচরে সরকারি পুকুর প্রভাবশালী মহলের জবর দখল, এলাবাসীর মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ ছাতকে স্রোতে ভেসে গিয়ে ২৬ ঘণ্টা গাছে ঝুলে থাকা নিখোঁজ আব্দুল লতিফ উদ্ধার হলেন যেভাবে
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে নেই নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। কারা ক্যান্টেইনে মনগড়া নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি ।।

Coder Boss / ১৮০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ( জেল থেকে ফিরে)

বাবার উপর সন্ত্রাসী হামলায় দীর্ঘদিন বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে ব্যাস্ত থাকায় এবং কিছুদিন পরেই বাবার ব্রেইন স্ট্রোক হয়ে ঢাকার নিওরোসাইন্স হসপিটালে নয় দিন আই.সি. ইউ তে ও দীর্ঘ দিন ঢাকা, সিলেট সহ বিভিন্ন হসপিটালে বাবাকে নিয়ে দৌড় ঝাপের কারণে ব্যাস্ত থাকায় হাজিরা দিতে পারিনি আদালতে।

২০১২ সালে এক ছেলেকে অপহরণ করে চাঁদা বাজী করার অভিযোগ এনে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ’র কক্ষ থেকে নাটকীয় ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল আমাকে, কিন্তু মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিল ঘটনা স্থল থেকে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বানিয়াচং থানার মামলায় ৪ দিন পরে জামিন পেলেও কারাগারে থাকা অবস্থায় শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে একটা চাঁদাবাজি অপহরণ মামলা সাজিয়ে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয় – জি. আর. ১১২/১২ শায়েস্তা গঞ্জ। সেই সাজানো মালায় দীর্ঘদিন জেলে থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলাম, দীর্ঘ দিন হাজিরা ও দিয়েছিলাম আদালতে।

তখন কার বানিয়াচং থানার এক জন এস. আই আরিফুল ইসলামের ফোন পেয়ে এবং ঘটনার খবর পেয়ে জেনে শুনেই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও র বিশ্বাস রেখে চ্যালেঞ্জ করে থানায় গিয়েছিলাম।
হয়তো এটাই ছিল আমার অপরাধ !!

বাবার মারাত্মক অসুস্থতায় দীর্ঘদিন আদালতে হাজিরা দিতে পারিনি, বাধ্য হয়ে আইন অমান্য করতে হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গত ২৬ আগস্ট ২০২০ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল মহোদয়ের আদালতে হাজিরা দিয়েছি।

জামিন বাতিল করে দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেছেন মহামান্য আদালত। দীর্ঘ ২২ দিন কারাভোগ করে অবশেষে ১৬ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেলাম।

কারাগারে যাহচ্ছে সামন্য তুলে ধরলাম

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে নেই নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, লোডশেডিং হলে পুরো জেল খানায় অন্ধকারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় বন্দীদের।
কারা ক্যান্টেইনে পণ্যের মনগড়া মূল্য আদায় করা হচ্ছে কারা বন্দীদের কাছ থেকে।

প্রতিটি ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশই অচল হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন যাবত।

যে গুলো সচল আছে সেগুলো ও নাম মাত্র শুধু ঘুরে। প্রতি ওয়ার্ডে রয়েছে ইমার্জেন্সি টেবিল লাইট সেগুলো ওয়ার্ড ইনচার্জদের মাধ্যমে কেনা হয় কারা বন্দীদের কাছ থেকে টাকা উঠিয়ে। বৈদ্যূতিক লাইট কিনতে হয় ওয়ার্ড ইনচার্জদের টাকায়, ফ্যান মেরামতের খরচ বহন করতে হয় ওয়ার্ড ইনচার্জ গণকে,

বন্দীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মাথা পিছু ২০০, ৫০০, ১০০০ করে টাকা নেওয়া হয়, প্রতি মাসে ওয়ার্ড ইনচার্জ সাজা প্রাপ্ত কয়েদি আসামিদের কাছ থেকে নেওয়া হয় মাসিক চাঁদা( ৪০০০) চার হাজার টাকা।
এই টাকাটা আদায় করা হয় সাজা প্রাপ্ত বন্দী চীফরাইটারের মাধ্যমে।

বন্দীদের নেই অভিযোগ করার স্বাধীনতা, জেলখানা পরিদর্শন করতে যান বিভাগীয় এবং জেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা গণ।

উনারা পরিদর্শনে যাওয়ার পূর্বেই জেল খানার প্রতিটি ওয়ার্ডের ইনচার্জ কয়েদি আসামি ( ফাইল পাহারা) দের কেইসটেবিলে ডেকে নিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় কোন বন্দী যেন কোন প্রকার অভিযোগ না করেন।

ওয়ার্ড ইনচার্জগন ও কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী সকল ওয়ার্ডে বন্দীদের জানিয়ে দেন যে,
কেউ যেন কোন বিষয়ে অভিযোগ না করেন, কোন পরিদর্শক যদি কোন বিষয়ে প্রশ্ন করেন তাহলে যেন বলা হয় সব কিছু ঠিক আছে,

যদি কেউ কোন অভিযোগ করেন তাহলে তাদের কেসটেবিল নিয়ে পিটানো হবে এবং সেলে দেওয়া হবে।

মোবাইল ফোনে সপ্তাহে একদিন কারা বন্দীদের পরিবারের লোকের সাথে ৫ মিনিট কথা বলার ব্যবস্থা থাকলেও কিছু অসাধু কারা রক্ষীদের আর পয়সা ওয়ালা চতুর প্রকৃতির বন্দী আসামিদের কারণে সুযোগটা দুই সপ্তাহে ও পাচ্ছেন না দূর্বল এবং নিরীহ বন্দী গন ।

প্রতি দিন লাইনে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মত ফিরে ওয়ার্ডে এসে কান্না করেন অনেকেই, আবার কেউ কেউ এক’শ টাকা অথবা এক পেকেট ডার্বি সিগারেটের বিনিময়ে বিশেষ সুযোগ পাচ্ছেন।
এই বিষয় টা হয়তো কারা কর্তৃপক্ষ বুঝতে পেরেই এখন প্রতিটি ভবনের বন্দীদের কে আলাদা করে পর্যায় ক্রমে সপ্তাহে তিন দিন ফোনে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন ৩-৪ দিন যাবত।
তবে প্রতি বন্দীগনের সপ্তাহে একদিন করেই কথা বলার সুযোগ থাকছে।

কারাগারের ভেতরের কয়েকটা বাথরুমের পাইপ ভেঙ্গে যাওয়ায় ট্যাংকিতে পৌঁছাতে পারছেনা, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ওয়ার্ডে। সামান্য ভারী বর্ষণ হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ময়লা ছড়িয়ে পড়ছে জেলখানার অধিকাংশ এলাকায়।

কারা ক্যান্টেইনে এক কেজি মৃগেল মাছ( মিরকা) অথবা রুই মাছের মূল্য ৫৫০ (পাঁচ শত পঞ্চাশ ) টাকা, এক কেজি পোল্ট্রি মোরগ ৪৫০ ( চারশত পঞ্চাশ) টাকা, এক কেজি চিনি ১০০( একশত) টাকা, এক কেজি আলু ৯০ টাকা, এক কেজি মশুরের ডাল ২০০ টাকা, এক কেজি মুখী ১২০ টাকা, এক কেজি রসূন ৩০০ টাকা, এক হালি চম্পা কলা ৩০ টাকা।
সিগারেট — গোল্ডলীফ,কেপস্টেন প্রতি প্যাকেট ৩০০ টাকা, বেনসন সিগারেটের মূল্য ৪০০ টাকা, আকিজ বিড়ি ৩০ টাকা।
তবে পিসি কার্ডে মূল্য তালিকায় পণ্যের বিবরণ উল্লেখ করার নিয়ম থাকলেও শুধু মূল্য টুকুই উল্লেখ থাকে পণ্যের বিবরণ লেখা হয়না।
জেল খানায় প্রতিদিন সকালে একবার জেলার এবং সুপার মহোদয় প্রবেশ করার সময় কেইস টেবিলের এরিয়া খুব গোছানো থাকে দুই ঘন্টার মত। সারাদিন চলে লুটপাটের মহা উৎসব।

রান্না ঘরে চলে ডাল এবং তরকারি বানিজ্য। টাকা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে কারা রক্ষীদের মাঝে একটু ঝামেলা হলেই নেওয়া হয় আইন গত ব্যবস্থা।

কারা হাসপাতালে রোগীর চেয়ে পয়সা ওয়ালা ভি. আই. পি লোকজন টাকার বিনিময়ে বেড দখল করে আছেন।
রোগীরা ঔষধ আনতে গেলে ডাক্তার এবং কারারক্ষীদের ধমক খেয়েই সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে
আসেন অনেকেই।

সাপ্তাহিক এবং মাসিক উর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তা পরিদর্শনে আসার খবর আসলেই পুরো জেল খানায় স্বর্গ পুরীর আইন পালন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন