আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : দুপুর ১:২১

বার : রবিবার

ঋতু : হেমন্তকাল

ধর্মপাশায় মামুদপুর গ্রামবাসী নিজেরা চাঁদা তুলে সড়ক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করলেন

এম এইচ লিপু মজুমদার ধর্মপাশা প্রতিনিধি

ধর্মপাশা মামুদপুর গ্রামবাসী
মাত্র আধা কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজের জন্য ইউপি সদস্য থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান পর্যন্ত বার বার দাবি জানালেও কোনো কাজ হচ্ছিল না। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে বার বার আশ্বাস পেয়ে বিরক্ত হয়ে অবশেষে সরকারি বরাদ্দের দিকে না থাকিয়ে গ্রামবাসী নিজেরাই টাকা চাঁদা তুলে সড়ক সংস্কার কাজে হাত দেন। চলতি বছরের ১৬জানুয়ারি থেকে গ্রামবাসীদের চাঁদার টাকা এই সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করে তা গত বৃহস্পতিবার (২৮জানুয়ারি) সম্পন্ন হয়েছে। এই কাজটি করেছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামবাসী। প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে এই ইউনিয়নের কাকিয়াম ও মামুদপুর গ্রামের স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীসহ দুই হাজারেরও বেশি মানুষজনকে বর্ষাকালে
চলাচল করতে গিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভাোগ পোহাতে হচ্ছিল। সড়ক সংস্কার কাজটি সম্পন্ন করতে পেরে মামুদপুর গ্রামবাসীদের মধ্যে আনন্দ উল্লাস বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামের সামনে থেকে শুরু করে একই ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের সামনের সড়ক পর্যন্ত সড়কটির দূরত্ব আধাকিলোমিটার। প্রায় দেড়যুগ আগে এই সড়কটি নির্মাণ কাজ করা হয়। ১০/১২বছর ধরে বর্ষাকালে এই সড়কটি পানিতে তলিযে যায় ।

সেই সময়ে নৌকা যোগে এখানকার মানুষজন ও স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদেরকে চলাফেরা করতে হচ্ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সভা করেন মামুদপুর গ্রামবাসী। পরে তাঁরা মিলেমিশে গ্রামের শতাধিক স্বচ্ছল পরিবারের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৫০০টাকা করে চাঁদা তুলেন। গত ১৬জানুয়ারি থেকে ওই সড়কটির ওপর মাটি ফেলে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হয় এবং গত ২৮জানুয়ারি তা শেষ হয়।

মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সড়কটির সংস্কার কাজের অন্যতম উদ্যোক্তা সরকারি চাকুরিজীবী আবু তাহের বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই সড়কটির সংস্কার কাজের জন্য গ্রামবাসীরা একাধিকবার গেলেও এ ব্যাপারে তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন না। বিষয়টি আমার কানে চলে আসার পর গ্রামবাসীদের সমবেত করে প্রথমে তাঁদের নিয়ে সভা করি। পরে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে চাঁদার টাকায় সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আমি নিজে এই সড়ক সংস্কার কাজের জন্য ১৫হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছি।
সরকারি চাকরি করার সুবাদে আমি :ঢাকায় থাকি। নিয়মিত এলাকায় থাকা হয় না। তাই ভবিষ্যতে গ্রামবাসীদের সমবেত করে স্থানীয়ভাবে এলাকার ছোট ছোট সমস্যাগুলো সমাধান করার ইচ্ছা আমার রয়েছে।

মামুদপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক লতু মিয়া (৪০) বলেন, আমরা চেয়ারম্যান মেম্বরের ধার (কাছে) সড়কটার কামের লাইগ্যা মেলাবার গেছি। যাইয়া কুনু কাম অয় নাই। এ অবস্থায় ১০/১২বছর ধইরা খুব কষ্টের মধ্যে চলাফিরা করতে অইতেছিল।নিরুফায় অইয়া গ্রামের শতাধিক পরিবারের লোকজন নিজেরাই টেহা দিয়া সড়হের কাম ধরছি। অহন আমরা হারাবছর হাটবাজারে ও ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজে যাইতাম হারবাম।

সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের ৩নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আতিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি বরাদ্দের অভাবে এই সড়কটির সংস্কার কাজ করা সম্ভব হয়নি।সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এখানকার আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষজনদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হলো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান বলেন, মামুদপুর গ্রামবাসীরা নিজেরা টাকা চাঁদা তুলে সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শুধু সরকারি বরাদ্দের দিকে না তাকিয়ে গ্রামবাসীরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে অনেক উন্নয়ন কাজ নিজেরাই করা সম্ভব। গ্রামবাসীরা সমবেত হয়ে এই কাজটি সম্প।ন্ন; করে ; এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিষয়টি অন্যদের কাছে অনুকরনীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category