শিরোনাম
‘ভারত বাংলাদেশের কল্যাণ চায় না’-অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ। সুবর্ণচরে ব্যবসায়ীর চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার সিলেটে বৃষ্টি,আবারও বন্যার পানি বাড়তে শুরু করেছে সুবর্ণচরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির মতবিনিময় সাতক্ষীরার আশাশুনি বিভিন্ন সড়কে পুলিশের অভিযান চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্রেগুলিতে বিএনপির পক্ষ থেকে খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু হিলফুল ফুজুল তরুণ সংঘের সম্মানিত উপদেষ্টা যুক্তরাজ্যর প্রবাসী সামছুল আলম খান শাহীন মহোদয়কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় সাতক্ষীরা আশাশুনিতে মাদকের অপব্যবহার ও পাচার বিরোধী দিবস পালিত মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির বিএনপির ত্রান বিতরন
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

বুস্টার ডোজ কি ও তার প্রয়োজনীয়তা।

Satyajit Das / ২৬৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২

সিলেট হেল্থ ডেস্ক:

করোনা থেকে লড়াইয়ের জন্য বর্তমানে একটি অস্ত্রই রয়েছে প্রত্যেকের হাতে। তা হল টিকাকরণ। সরকার ও বিশেষজ্ঞদের তরফে সাধারণ মানুষের কাছে বার বার আর্জি জানানো হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব করোনা টিকা নেওয়ার জন্য। করোনা ভ্যকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমের দিকে অনীহা তৈরি হয়েছিল এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে;অনেকেই করোনা টিকা নিতে অস্বীকার করেছিলেন। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই কেটেছে। গণহারে টিকাকরণ চলছে সারা দেশে। কারণ বর্তমানে করোনা সংক্রমণ কমানোর জন্য টিকাকরণই একমাত্র উপায়।এদিকে প্রায় দেড় বছর অতিক্রম হয়ে গেলেও করোনা সংক্রমণ এখনও চলছে।

বুস্টার ডোজ কি?
খুব কম কথায়,বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়,প্রাথমিক ডোজকে আরও শক্তিশালী করা। পূর্বে দেয়া কোন প্রথমিক টিকার কার্যকারিতা উজ্জীবিত করতে যে বাড়তি ডোজ দেয়া হয় তাকেই ঐ টিকার বুস্টার ডোজ বলে।

বুস্টার ডোজের প্রয়োজনীয়তাঃ-
বুস্টার ডোজ এর টিকা গ্রহণ খুবই দরকার। কারণ হলো প্রথম ডোজ টিকায় কিছু সুরক্ষা হয় ঠিকই, কিন্তু বুস্টার ডোজ গ্রহণ না করলে সেই সুরক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। গত ১৫ জানুয়ারি ২০২১ বিবিসি ফিউচারে (অনলাইন) জারিয়া গরভেট বিষয়টি বেশ সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

প্রথম টিকা নেওয়ার পর দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা রক্তের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতকণিকাকে সক্রিয় করে। প্রথমত প্লাজমা বি-সেল। এরা প্রধানত অ্যান্টিবডি তৈরির প্রতি মনোযোগ দেয়। কিন্তু এই সেলগুলোর স্থায়ীত্বকাল কম। তাই প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর রক্তে প্রচুর অ্যান্টিবডি থাকলেও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া না হলে এদের সংখ্যা কমে যায়। আরেকটি হলো টি-সেল। নির্দিষ্ট প্যাথোজেন চিহ্নিত করে এদের অকার্যকর করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে এরা। এদের মধ্যে কিছু থাকে ‘মেমোরি টি-সেল’। এরা দেহে কয়েক দশক টিকে থাকে। নির্দিষ্ট ভাইরাস পেলে আক্রমণ করে। তার মানে টিকা নেওয়ার পর অথবা যাঁদের একবার করোনা হয়ে গেছে,তাঁদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

টিকার দ্বিতীয় ডোজের আসল কাজ হলো অ্যান্টিবডি তৈরিতে দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলার জন্য আবার কিছু অ্যান্টিজেন দেহে ঢুকিয়ে দেওয়া। ফলে সুনির্দিষ্ট ভাইরাস বা প্যাথোজেন-সংশ্লিষ্ট অণুগুলোর সন্ধান পাওয়ামাত্র দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা বিপুল শক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। শুরু হয় সুরক্ষাব্যবস্থার দ্বিতীয় অধ্যায়। এর ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সব দিক সদা প্রস্তুত অবস্থায় থাকে। মেমোরি টি-সেলের সংখ্যা বাড়ে, আবার ক্ষেত্র বিশেষে সংখ্যাধিক্য ঘটে মেমোরি বি-সেলেরও। তাই বলা যায় করোনার বিরুদ্ধে দেহের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বুস্টার ডোজের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।

বুস্টার ডোজ কে বা কারা নিতে পারবেন?

বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, দুই ডোজ টিকা গ্রহণের পর ছয় মাস বা এক বছর পার হয়েছে,এমন ব্যক্তিরা বুস্টার নিতে পারবেন। তবে কিছু মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে,যেমন প্রথমে ষাটোর্ধ্ব আর জটিল শারীরিক রোগ (ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ,কিডনি রোগ,হৃদরোগ, ক্যানসার,শ্বাসতন্ত্রের রোগ ইত্যাদি) আছে এমন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সব সম্মুখসারির মানুষ (চিকিৎসক,নার্স,স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিক)। এরপর টিকার প্রাপ্যতা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অন্যরাও পাবেন। যেকোনো ধরনের করোনার টিকা গ্রহণকারীই বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন। বুস্টারে একই ধরনের বা অন্য যেকোনো ধরনের টিকা গ্রহণ করা যাবে। তবে অনেক বিজ্ঞানী ভিন্ন ধরনেরটাই গ্রহণ করতে পরামর্শ দিচ্ছেন। একে ‘মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ’ বলা হয়। এতে নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি বেশি তৈরি হয় বলে ধারণা করা হয়। প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজে যে ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে,যেমন অবসাদ,ক্লান্তি, মৃদু জ্বর,শরীর বা মাংসপেশি ব্যথা,মাথাব্যথা—সেগুলো বুস্টার ডোজেও হতে পারে। জটিল কোনো প্রতিক্রিয়ার রেকর্ড এখনো পাওয়া যায়নি। তবে যাঁদের প্রথম ডোজগুলোতে জটিল অ্যালার্জি বা হাইপারসেনসিটিভিটি হয়েছে,তাঁরা বুস্টার নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

করোনার টিকা আসার পর থেকে বিশ্বজুড়ে করোনায় জটিলতা ও মৃত্যুহার যে কমেছে,এ বিষয়ে তো কোনো সন্দেহ নেই। বুস্টার নেওয়ার পর করোনা আর হবে না,তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে জটিলতা ও মৃত্যুহার কমবে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। বিধিনিষেধ করে অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে হবে না। তবে মনে রাখা দরকার,করোনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি পালন। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও ভিড় এড়িয়ে চলা করোনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়,তা যেন আমরা ভুলে না যাই। বিশ্বজুড়ে অমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, আমরাও তাই ঝুঁকির বাইরে নই। এখনই সচেতন হতে হবে। যেভাবে আমরা মাস্ক ছাড়া ঘুরছি,প্রচুর জনসমাগম আর উৎসব অনুষ্ঠান করছি,ভ্রমণ করছি, তাতে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। সীমান্ত ও বন্দরগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। বিদেশ থেকে আসা মানুষের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। করোনার উপসর্গ অনেক সময় ফ্লুর মতো মৃদু হচ্ছে তাই যেকোনো ধরনের জ্বর হলেই আইসোলেশনে থাকতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তি যেন জনসমাগম, উৎসব অনুষ্ঠানে বা ভ্রমণে না যান, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে যেন পরিতাপ না করতে হয়।

জনসন অ্যান্ড জনসন উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ এ ভাইরাসের নতুন ধরন অমিক্রনের বিরুদ্ধে কার্যকর। দক্ষিণ আফ্রিকায় চালানো একটি গবেষণার উল্লেখ করে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে।

গত ১৫ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই গবেষণা চালানো হয়েছে। প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে,এক ডোজের টিকা জনসনের বুস্টার ডোজ অমিক্রনের বিরুদ্ধে ৮৫ শতাংশ কার্যকর। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। এজন্য দক্ষিণ আফ্রিকার মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল জনসনের টিকা নেওয়া ৬৯ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এই টিকার বুস্টার ডোজও দেওয়া হয়েছে ওই স্বাস্থ্য কর্মীদের। এরপর তাদের সঙ্গে যারা টিকা নেননি এমন ব্যক্তিদের তুলনা করা হয়েছে। যদিও এর আগে জনসনের টিকা নিয়ে বেশকিছু ঝুঁকির কথা জানিয়েছিলে বিশেষজ্ঞরা। এই টিকা নেওয়ার পর জটিলতা দেখা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে এটি প্রদান বন্ধ করা হয়। পরে ইউরোপের দেশগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়।

কোন ধরনের টিকা বুস্টার ডোজ হিসেবে দেয়া হচ্ছেঃ-
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে টিকার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ হিসেবে বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে ফাইজার-বায়োনটেক,মডার্না এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা৷ যারা বুস্টার ডোজ নেওয়ার যোগ্য, তারা আগের দুই ডোজে যে টিকাই নিয়ে থাকুন না কেন,তৃতীয় ডোজে তাদের দেওয়া হবে ওই তিন টিকার মধ্যে যে কোনো একটি৷ এক্ষেত্রে টিকাগ্রহীতার বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই৷ যে আগে যে হাসপাতাল থেকে দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন,সেই হাসপাতাল থেকে তার কাছে বুস্টার ডোজের তারিখ জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হবে৷ সেই কেন্দ্রে যে টিকা থাকবে,সেটাই তাকে নিতে হবে৷ বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গত ২৯/১২/২০২১ তারিখে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছিলেন। গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ইং রোজ মঙ্গলবার থেকে ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয় এবং বুধবার ২৯ ডিসেম্বর আরও কয়েকটি জেলায় বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়ে,পর্যায়ক্রমে দেশের সবগুলো জেলাতেই বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে ৷
যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং যারা কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে আছেন,তাদের করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে৷ টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ছয় মাস পরে তারা বুস্টার ডোজ বা তৃতীয় ডোজ নিতে পারবেন৷ বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজার, মডার্না অথবা অ্যাস্ট্রাজেনেকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল কমিটি-নাইট্যাগ৷

নাইট্যাগের সুপারিশ অনুযায়ী,প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ যে টিকাই দেওয়া হোক না কেন,তৃতীয় ডোজ হিসেবে ফাইজার,মডার্না অথবা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর৷ কিন্তু বুস্টার ডোজ হিসেবে তিনটি টিকা নির্ধারণ করা হলেও টিকাগ্রহীতার পছন্দ অনুযায়ী টিকা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছিলেন,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। ‘‘টিকা দেওয়া হবে কেন্দ্রে টিকা থাকা সাপেক্ষে৷ মূলত আমরা ফাইজার দিচ্ছি৷ কিন্তু ফাইজারের টিকা (সংরক্ষণে) কিছু রিকয়ারমেন্টস থাকে,এজন্য অনেক জায়গায় ফাইজার নেওয়া যাচ্ছে না৷ সেসব জায়গায় আমরা অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা মডার্না দেব৷ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে না৷”

বুস্টার ডোজ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ-
করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই সেই নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য,টিকা নেওয়ার পর কোনও ব্যক্তির শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সে নিয়ে চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। তাঁদের যুক্তি,যে কোনও ভ্যাকসিন শরীরে প্রবেশ করার পরে সেটি নিজের কাজকর্ম শুরু করে। তার জন্যই শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তবে সেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় খুবই সামান্য। যে কোনও টিকা গ্রহণের পর শরীরে যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় সেগুলি হল জ্বর, ক্লান্তি, মাথা ব্যথা,ইত্যাদি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO) এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যতটা সম্ভব করোনাভাইরাসকে মানব শরীরে প্রবেশ করা থেকে রক্ষা করতে হবে। তার জন্য মাস্ক পরতে হবে এবং বার বার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি তাঁদের বক্তব্য,যতটা সম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। বিশ্বব্যাপী অতিমারী পরিস্থিতি যে ভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রতিটি মানুষকে সচেতন হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধূমপান বর্জনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধূমপায়ীদের শরীরে কোভিড আক্রমণ হলে তাঁদের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন বলেছেন, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ অত্যন্ত সংক্রমণযোগ্য। তবে এটি নিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি দ্য ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনার ছয়টি ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিরাপদ,শক্তিশালী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যে ছয়টি ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ শক্তিশালী ইমিউন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার-বায়োটেক, নোভাক্স, জ্যানসেন, মর্ডানা, ভালনেভা এবং কিউরেভ্যাক।

ল্যানসেট সমীক্ষা অনুসারে,অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ফাইজারের দুটি ভ্যাকসিন ডোজ ছয় মাস পরে হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর বিরুদ্ধে ৭৯ শতাংশ এবং ৯০ শতাংশ সুরক্ষা দেবে। সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে, এই বুস্টার ডোজ নিরাপত্তা,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে।

ইউনিভার্সিটি হসপিটাল সাউদাম্পটন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, ইউকে-এর ট্রায়াল লিড প্রফেসর সোল ফাউস্ট বলেছেন,গবেষণা অনুসারে বুস্টার ডোজ সুবিধাভোগীরা ‘ইঞ্জেকশন যেখানে দেওয়া হয়েছে সেখানকার পেশীতে ব্যথা,ক্লান্তি এর মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারেন।’ তবে বুস্টার দেওয়ার আরও তিন মাস এবং এক বছর পর কেমন কাজ করছে তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
বুস্টার ডোজ শরীরে আদৌ দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা এবং ইমিউন তৈরি হচ্ছে কি না তা দেখা হবে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ফাইজার-বায়োটেক,-এর প্রাথমিক দুই-ডোজ কোর্সের ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ পরে দেওয়া হয়েছিল এই বুস্টার ডোজ।

কারা বুস্টার ডোজ এর টিকা পাবেনঃ-
যারা একাধিক রোগে ভুগছেন (কোমর্বিডিটি) এমন ব্যক্তিদের করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম। এক্ষেত্রে তাদের বয়স কোন বাধা হবে না। গত সোমবার (৩ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন,’যাদের কোমর্বিডিটি আছে, যারা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে আছেন- তারাও বুস্টার নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা হবে না। যে কোমর্বিডিটিগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল আমরা তাদেরকে প্রাধান্য দিতে চাচ্ছি।’

দেশে গত ২৮ ডিসেম্বর বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় সম্মুখসারির ব্যক্তিরা বুস্টার ডোজ পাচ্ছেন। এটি পাওয়ার জন্য করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ছয় মাস পার হতে হবে।এর আগে ২৭ ডিসেম্বর এবিএম খুরশীদ আলম বলেন,’যাদের করোনাভাইরাস আক্রান্ত হলে মৃত্যুঝুঁকি বেশি। তাদের বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে টিকা কার্ড নিয়ে টিকাকেন্দ্রে যেতে হবে। তাকে বলতে হবে যে তার শারীরিক অসুস্থততা রয়েছে। কারো হয়তো ক্যান্সার আছে,কিন্তু বয়স ৪০। সে বাদ যাবে কেন? আমরা তাকেও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’

টিকার জন্য নিবন্ধন করার সময়ে যে সব তথ্য নেওয়া হয়েছে। সেটা দেখেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত হবে যে কোনো ব্যক্তির কোমর্বিডিটি আছে কি না এবং কাকে বুস্টার ডোজ টিকা দেয়া লাগবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন