নিজস্ব প্রতিবেদক, জকিগঞ্জ:
সিলেটের জকিগঞ্জে এক অসহায় বিধবা নারীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে মূল অভিযুক্ত অলি আহমদ। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা এই লম্পট কি আইনের ঊর্ধ্বে? ভুক্তভোগী নারী ও তার প্রতিবন্ধী সন্তান যখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, তখন অভিযুক্ত অলি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্ষমতার দাপটে পৈশাচিকতা
অভিযুক্ত অলি আহমদ জকিগঞ্জের কসকনপুর ইউনিয়নের পুকরা গ্রামের আব্দুর রশীদের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী ও আত্মীয় হওয়ার সুযোগ নিয়ে অলি দীর্ঘদিন ধরে ওই বিধবা নারীকে কুপ্রস্তাব ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। স্থানীয় মুরুব্বি ও ইউপি সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি; বরং অভিযোগ করায় অলি আরও বেশি হিংস্র ও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
ঘটনার বীভৎসতা
গত ১৮ জুলাই ২০২৫, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভুক্তভোগীর প্রতিবন্ধী ছেলে বাড়িতে না থাকার সুযোগে অলি ওই নারীর রান্নাঘরে অতর্কিতে হামলা চালায়। একা পেয়ে তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এই নরপশু। ধস্তাধস্তিতে নারী গুরুতর আহত হন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে অলিকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখা যায়। স্থানীয়রা তাকে ধরার চেষ্টা করলে সে দ্রুত পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই নারীর প্রতিবন্ধী সন্তানকেও সাইকেলের চেইন দিয়ে পিটিয়ে জখম করার পৈশাচিক অভিযোগ রয়েছে অলির বিরুদ্ধে।
প্রশাসনের অনীহা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর গত ২২ মার্চ ২০২৫ জকিগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি, যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিরুপায় হয়ে ওই নারী ৩১ জুলাই ২০২৫ সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।
বর্তমানে মামলার দেড় মাস অতিবাহিত হলেও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার। ভুক্তভোগী নারী আক্ষেপ করে বলেন:
“মামলা করার পর থেকে অলি ও তার পালিত গুণ্ডারা আমাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। আমি আর আমার প্রতিবন্ধী সন্তান ঘরের বাইরে বের হতে পারছি না। খুনি-ধর্ষক প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ পুলিশ বলছে তারা কিছু জানে না।”
পুলিশের দায়সারা বক্তব্য
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) সুজন আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত দায়সারাভাবে জানান, বিষয়টি বর্তমানে তার নজরে নেই। প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের মামলা হওয়ার পরও কেন পুলিশ এই জঘন্য অপরাধীকে গ্রেপ্তারে কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না?
গণদাবি
এদিকে, একজন বিধবা ও তার প্রতিবন্ধী সন্তানের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল অবিলম্বে এই রাজনৈতিক পরিচয়ে বলীয়ান অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।