সিলেট নিউজ ডেস্ক :
ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোরপূর্বক বাসায় প্রবেশ এবং হামলার একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সুইটি সিনহার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাবাড়ী, কাজলা পার, কোনাপাড়া, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে আসছেন তিনি। কখনো সাংবাদিক, কখনো ইঞ্জিনিয়ার, আবার কখনো আইনজীবী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, “সাপ্তাহিক অপরাধের বিচিত্রা” নামের একটি গণমাধ্যমের ব্যানার ব্যবহার করে বিভিন্ন অফিস ও ফ্যাক্টরিতে গিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সেই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তার লিখিত অভিযোগে জানান, ১১ মার্চ ২০২৬ বিকাল আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে অভিযুক্তরা তার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দেয় এবং বিভিন্ন কাগজপত্র দেখতে চায়। কাগজপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এক পর্যায়ে তার প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ শেয়ার দাবি করা হয় এবং তা না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
অন্য এক ঘটনায়, ৯ মার্চ ২০২৬ রাতে, অভিযুক্ত সুইটি সিনহা এক ভুক্তভোগীর বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নগদ অর্থ দাবি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে সরিয়ে দেয়।
এর আগে কাজলা এলাকায় একটি পণ্যবাহী ভ্যান আটকের ঘটনাতেও একইভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এক যুবককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে, যার ভিডিও ফুটেজও রয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্তের একটি বক্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—তার দাবি: “পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করতে পারবে না।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে এটি চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।