বিশেষ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক রোহিঙ্গা যুবককে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে উখিয়ার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই/১১ ব্লকের একটি পাহাড়ি এলাকার গুদামঘর থেকে আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মো. রফিক (৩০) ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ/৬ ব্লকের ১৬৫ নম্বর ঘরের বাসিন্দা। তিনি মৃত সামসুল হুদার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়,রফিক ও ১৫ নম্বর ক্যাম্পের ই/১১ ব্লকের বাসিন্দা আনোয়ার শাহ দীর্ঘদিন ধরে যৌথভাবে গার্মেন্টস সামগ্রীর ব্যবসা করে আসছিলেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে ১৬ নম্বর ক্যাম্পের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ইউসুফের চায়ের দোকানের সামনে দু’পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আনোয়ার শাহ ৬ থেকে ৭ জন সহযোগীকে নিয়ে রফিককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ১৫ নম্বর ক্যাম্পের ই/১১ ব্লকের একটি পাহাড়ি এলাকায় কলিমউল্লার গুদামঘরে আটকে রাখে। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ও নীলাফোলা জখমের সৃষ্টি হয়।
বিকেল ৫টার দিকে রফিকের পরিবার বিষয়টি ৮ এপিবিএনকে জানায়। খবর পেয়ে ৮ এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের (পিপিএম) নির্দেশনায় জামতলী পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল স্থানীয় ব্লক হেড মাঝি ও সাব-মাঝিদের সহায়তায় ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল অভিযুক্ত আনোয়ার শাহসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে গুদামঘর থেকে আহত রফিককে উদ্ধার করে জামতলী পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৮ এপিবিএনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান,ব্যবসায়িক পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করেই অপহরণ ও নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বর্তমানে ক্যাম্প এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সিলেট নিউজ২৪/এসডি.