অথই নূরুল আমিন:
২০২৬ – ২০২৭ অর্থবছরে বিএনপি সরকার দেশের সবচেয়ে বড়ো বাজেট ঘোষণা করেছে। সে মোতাবেক জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ( একনেক ) থেকে মোটামুটিভাবে বেশ কিছু প্রকল্পের অনুমোদন ও দেয়া হচ্ছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ( একনেক ) থেকে এ পর্যন্ত যেসকল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলোর ও প্রয়োজন নেই আসলে তা নয়। তবে সমগ্র দেশ জুড়ে বিদ্যুত ও গ্যাসের এক মহা সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে। এমন সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে। ছোট খাটো অসংখ্য কলকারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অসংখ্য শ্রমিক হয়ে যেতে পারেন বেকার!
বিএনপির গত পাঁচ মাসে সরকারের তেমন কোন অগ্রগতি নেই বললেই চলে। সরকার কী করছে আর কী করবে? জনগণ আসলে কোনো কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। গত পাঁচ মাসের সরকার নিয়ে খুবই চিন্তায় আছে দেশের জনগণ। তার মুল কারণ হলো। গত পাঁচ মাসে দেশের প্রায় সকল পণ্যের মূল্য বেড়ে গেছে অটোমেটিক। যানবাহনের ভাড়া বেড়ে গেছে দেশের প্রায় সকল রোডে। দুইশর উপরে আসন পাওয়া একটি সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যে বহাল আছে। তা জনগণ মনেই করছে না। আজকে দেশের কোনো কিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই বললেও ভুল হবে না।
অন্য দিকে আইনশৃঙ্খলার ও খুবই নাজেহাল অবস্থা। লক্ষ্য করে দেখা গেছে, সরকারি কোনো কর্মকর্তাই কোনো রকম কাজ করছে না কেউ। সবাই যেন গা ভাসা অবস্থায় আছে। যে দেশে প্রতিটা মন্ত্রণালয় অধিদপ্তর ভর্তি সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী। কিন্তু সবাই কেন জানি অলস জীবনযাপন করছে। কাউকে কোন কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না। আমার মনে হচ্ছে তারা সবাই যেন প্রমোদ ছুটিতে আছে।
দেশের সিংহভাগ জনগণ আজকে যেন আরো অনেক বড়ো হতাশ! কী আছে দেশের ভাগ্যে? কী আছে জনগণের ভাগ্যে? ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমরা কী বা করছি? আসলেই সর্বক্ষেত্রে এতো হতাশায় গোটা একটি জাতি। অথচ এই জাতির জন্য বিএনপি সরকার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো একটি বাজেট ঘোষণা করে বসে আসে। বাজেটের প্রায় অর্ধেক অর্থ সরকারি কর্মকর্তা আর কর্মচারিদের বেতন ভাতায় চলে যাবে। ২৫% অর্থ চলে যাবে দেশের অবকাঠামো তৈরি আর মেরামতের কাজে। বাকী ২৫% অর্থ দান অনুদান অনুষ্ঠান আর দেশে – বিদেশে ভ্রমন এবং বিদেশী অতিথিদের আদর আপ্যায়নে । এখানে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, বেকারত্ব কমিয়ে আনা। গৃহহীন ভূমিহীনদের পূনর্বাসন এগুলো যেন শুধুই এখন স্বপ্ন হয়ে জনগণের মনে চাপা কান্না হয়ে আছে।
দেশের উন্নয়ন, জাতির মেধা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করন। শিক্ষার মান উন্নয়ন। স্বাস্থ্য সেবায় পরিবর্তন এগুলো যেন সব থেমে আছে অযোগ্যতার গ্যাড়া কলে। অথচ বিএনপির চার কোটি ভোটার। সমগ্র দেশ জুড়ে প্রায় দেড় লাখ নেতাকর্মীরা একদিন হয়তো সমাজে মুখ ঢেকে চলতে হতে পারে সরকারের এহেন ব্যর্থতার জন্য লজ্জায় । সতেরো বছর পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে তারা সকল ক্ষেত্রে এতো বড়ো কঠিন ব্যর্থতার পরিচয় দেবে, এরকম হয়তো কেউ কখনও ভাবেনি। বিএনপির এই ব্যর্থতায় জনগণ আবার জেগে উঠতে পারে, আওয়ামী লীগের প্রতি নতুবা জামায়াত- এনসিপিকে ক্ষমতায় বসাতে আবার কঠিন আন্দোলন হতে পারে বিএনপির বিরুদ্ধে। ২০২৯ সালের ভিতরেই যদি আরেকটি জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে বিএনপি বাধ্য হয়। তাহলে বিএনপির অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যেতে পারে ।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থের লেখক