শিরোনাম
হলি আর্টিজান হামলার ৬ বছর;হয়নি মামলার নিষ্পত্তি। বিশিষ্ট শিল্পপতি জনাব আবু উল রশীদ এর পক্ষথেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয় লোভ-হিংসা ও সংকির্ণ মনোভাবের ঊর্ধ্বে ওঠে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে ——-সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী মাধবপুরে কৃষ্ণপুরের ব্রিজটি না হওয়াতে বিকল্প কাঠের সেতু তৈরী করে যানচলাচলে উপযোগী করছেন এলাকাবাসী জগন্নাথপুরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজাদ মিয়া ফরুকের পরিবারের পক্ষ থেকে ত্রান বিতরণ মৌলভীবাজার সমিতি সিলেট এর ত্রান ও নগদ অর্থ বিতরন বৃষ্টির মধ্যেও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন ইউ.কে প্রবাসী আলাউদ্দিনের পরিবার শাল্লা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ। ‘ভারত বাংলাদেশের কল্যাণ চায় না’-অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ। সুবর্ণচরে ব্যবসায়ীর চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার
শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ০৭:৩২ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে শ্রীমঙ্গল আসছে জলের গান

Coder Boss / ৮৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১

সত্যজিৎ দাস,বিশেষ প্রতিনিধি।

১৯৭৬ সালের ৩০ জুন হবিগঞ্জ এর কালিয়ারভাঙ্গায় মামা’র বাড়িতে জন্ম । হাওড়ের ঢেউয়ের সঙ্গেই কেটেছে এই গুণী মানুষটির শৈশব। হাওড় অঞ্চলে জন্ম হলেও স্কুল জীবন কাটিয়েছেন নারায়াণগঞ্জে। এরপর কলেজ জীবন কেটেছে সিলেটে। সেখানেই থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। হাওড়ের নদী-জলের সঙ্গে শৈশব কাটিয়ে কৈশরে শহরের নাগরিক জীবন। এই দুই মিলেই তৈরি হয়েছে রাহুল আনন্দের শিল্পীমানস। এ জন্যই রাহুল আনন্দের গান প্রান্তিক মানুষও আপন করে নেয়। আবার শহরের নাগরিক মানুষও ভালোবাসে। তবে এই গুণী শিল্পী বলেন,”আমরা আসলে নিজেদের আনন্দের জন্য গান করি। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকতে চাই। আনন্দে কাটাতে চাই জীবন। গানের মাঝে জীবনের আনন্দ খুঁজি”। কলেজে পড়ার সময় সিলেটের দর্পণ থিয়েটারে যোগ দেন রাহুল ও তার কয়েকজন বন্ধু। তখন থেকেই থিয়েটারচর্চা শুরু। এরপর ঢাকায় চারুকলায় ভর্তি হন। একই সময়ে আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে আরণ্যক ছেড়ে নিজেরা গড়ে তোলেন নাট্যসংগঠন প্রাচ্যনাট। চারুকলায় পড়ার সময় রাহুলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় কনক আদিত্যের। দুজনই গান পাগল। পরবর্তীতে তাদের গানের সঙ্গী হয়ে উঠেন জার্নাল, যুক্ত হন আরও কয়েকজন তরুণও। নিজেরা মিলে থিয়েটারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং ঘরোয়া আড্ডায় গান করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৬ সাল থেকে “জলের গান” নাম নিয়ে যাত্রা শুরু। সেই থেকে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে জলের গান।
এই সংগীত চর্চা কীভাবে শুরু হলো? তা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের
কে রাহুল বলেন, ‘আমার মা গান করতেন, ঠাকুরমা গান করতেন,বাবার ঠাকুরমা গান তো করতেনই এবং লিখতেনও। কিভাবে কিভাবে যেন গানটা আমার মধ্যে ঢুকে গেল।
চারুকলায় ভর্তি হয়ে এই গুণের জন্য আদর পেলাম। ভাবলাম, ধরে রাখি, কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।’
বাবুল ভট্টাচার্যের কাছে রাহুলের বাঁশি শেখার শুরু ১৯৯১ সালে। থিয়েটারও করতে লাগেন। এখনো কিন্তু শিখেই চলেছেন। তাঁর ইচ্ছা, শিল্পের মাধ্যমগুলো একত্রিত করা। ‘আমি যেটা করছি, থিয়েটারে মিউজিক মেশাচ্ছি, ঢোকাচ্ছি ফাইন আর্টস। আবার মিউজিকে মেশাচ্ছি থিয়েটার, ফাইন আর্টসও বাদ যায় না। ভিডিও আর্ট নিয়েও কিছু কাজ করছি।
আর আমরা নিজেরা নিজেরা গান করতাম। প্রায় প্রতিদিনই চারুকলার বারান্দায় নয় তো গাছতলায়। একদিন হঠাৎ ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালকের বাসায় গান করতে দাওয়াত পাই। এখন যে দলের নাম লাগে! মনে এলো, জলের গান। সবাই পছন্দ করল। কেন জলের গান? তিনি বললেন, বাংলাদেশ তো জলেরই দেশ। তাই জলের গান। রাহুল আনন্দ বলেন,এই বাংলাদেশটাই আমার মোক্ষধাম। শহর নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি না। ঢাকা শহর কেবল কর্মক্ষেত্র। গান যখন ডানা মেলে সব কথা গান হয়ে ওঠে না। যেমন সব কবিতা হয় না গান। ভাব পূর্ণ হলে পরে একটা পাখি হয়, সেটা তখন ডানা মেলে। গানওয়ালারা সেই পাখিটাকে ধরার চেষ্টা করেন সব সময়। তিনি বলেন-‘গানটা যখন হয়ে ওঠে তখন কিন্তু শত্রুও সেটা পায়ে ঠেলে না। তখন সেটা ছড়ায় জলের মতো। তখন ওই সিডি-ক্যাসেটও লাগে না। পাখিটা ডানা মেলে কোথায় যে চলে যায় দিশা রাখা কষ্ট হয়। ’
আনন্দে বাজে, দুঃখের মধ্যেও শিল্পীর কাজ দর্শক-শ্রোতাকে শিল্পী বানানো। একটা ছবি দেখলে আপনি যদি আরেক মানুষ না হয়ে যেতে পারেন তো বুঝতে হবে ছবি সার্থক হয়নি। একটি সার্থক গান অতিলৌকিক অনুভূতি দিতে পারে। ওইটা তখন আনন্দে বাজে, দুঃখের মধ্যেও বাজে। যেমন আমাদের প্রাচ্যনাটের সঞ্জীবনের লেখা ও জগলুলের সুর করা আন্ধার রাইতে গানটা শুনে অনেকে নাকি ঘুমাতে যায়। আবার ঘুম না এলেও অনেকে ওই গানটা শোনে।
একটা গাছকে কেউ যদি ভালোবাসে, আল্টিমেটলি গাছ, গাছের সঙ্গে রিলেটেড পাখি, পাখির সঙ্গে রিলেটেড ফল-সব কিছু চলে আসছে। ’
রাহুল নিজেরটা নিজেই বানান।
‘প্রাচীনকাল থেকে আমাদের এই দেশে গুরুজনরা গানের যন্ত্রগুলো নিজেরা বানিয়ে নিতেন। দোতারাটা, একতারাটা, বাঁশিটা, ঢোলটা। তাঁরা তো পথ দেখিয়ে গেছেন, তো আমি বানাব না কেন। সারা পৃথিবীর মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমার গানের স্বার্থে যদি গিটারের প্রয়োজন হয়-আমি গিটার ব্যবহার করছি, ভায়োলিন দরকার হলে ভায়োলিন। কিন্তু যেখানে আমার একটা অন্য যন্ত্র দরকার, যা দোতারা আর ভায়োলিনের মাঝামাঝি কিছু। তখন তো সেটি বানাতে হবে। ’ আচ্ছা, আপনাদের জলের গান এর সবার গায়ে যে পোশাক দেখা যায়,তা অন্যান্য ব্যান্ড দল,গানের দলে দেখা যায় না তেমন। তিনি বললেন,গায়ে রং মাখতে ভালো লাগে।গায়ে রং মাখি পোশাক দিয়ে। আমি যখন পোশাকটা পরি তখন চিন্তা করেই রংগুলো দিই, যাতে হেঁটে গেলে একটা ক্যানভাস দেখা যায়। শুধু পোশাক নয়,আমি টুপি সংগ্রহ করি, প্রচুর টুপি আছে আমার। হুট করেই একটা কিছু পরে ফেললাম,সেটি আমি করি না। আর যেহেতু আমি থিয়েটার করি, এটা করি-ওটা করি; সুতরাং আমি ঢোলাঢালা পোশাক পরতে খুব পছন্দ করি এবং আমি নিজে ডিজাইন করে নিই। আমার স্ত্রী ঊর্মিলা শুক্লা, যাত্রা নামের ফ্যাশন হাউসের চিফ ডিজাইনার। তো এইটাও আমার জন্য একটা সুবিধা। রাতে যে ডিজাইনটা আমরা দুজন মিলে ডেভেলপ করলাম,পরের দিনই দেখা গেল যে সেটি তৈরি হয়ে যাচ্ছে। পুরো দলের জন্য পোশাকের চিন্তাটা মূলত আমিই করি। ’
রাহুল আনন্দ দেশের বাইরে প্রথম শো করেন ইউকেতে ২০০৬ সালে। সব মিলিয়ে আটটি শো করেছিলেন। এরপর ইন্ডিয়ায় মুম্বাইতে একটি উৎসবে গিয়েছিলেন। আগামীতে উনার অনেক দেশে ভ্রমণের কথাও জানালেন । সব যদি ঠিকঠাক থাকে, তাহলে একটা ওয়ার্ল্ড ট্যুরে যাবেন। তার আগে উনি পুরো সোনার বাংলা দেশটা ভ্রমণ করবেন জলের গান নিয়ে। সেটি সাইকেলেই হোক,বাসে হোক অথবা নৌকায়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৬/০৩/২০২১ ইং রোজ শুক্রবার সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল আসছে “জলের গান”। স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন উপজেলা পরিষদ মাঠে এই আনন্দ উৎসবের আয়োজন করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন