আজ ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৪:২১

বার : শুক্রবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

উপ-সচিব’এর সংক্ষিপ্ত কর্মজীবনের কথা তুলে ধরলেন মোঃআজিজুল হক।

সেলিম মাহবুব,ছাতকঃ
আমি চিৎকার করে কাদিঁতে চাহিয়া, করিতে পারিনি চিৎকার।

ইতিহাসবিদ জনাব শহিদুর রহমান এর সংক্ষিপ্ত কর্মজীবন
স্বনামধন্য ইতিহাস গবেষক ও লেখক হাজী মোঃ শহিদুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার অন্তর্গত রাণীদিয়া গ্রামের অধিবাসী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রাইমারী স্কুলে তার ছাত্র জীবন আরম্ভ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে অর্থনীতিতে তিনি এম,এ পাশ করেন।

তার চাকরী জীবন শুরু হয় পাকিস্তান সরকারের অধীনে করাচি থেকে।

একজন ক্যাডারভুক্ত চাকুরীজিবী হিসেবে ১৯ বছর চাকুরী করেন তিনি।

১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব হিসেবে স্বেচ্চায় সরকারী চাকুরী থেকে অবসর নিয়ে লেখালেখীর কাজে মনযোগী হন।

তিনি ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত একজন পাটের রপতানি কারক হিসেবে পাট ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন।

কিন্তু তার সময়ের বেশির ভাগই তিনি ব্যয় করেন বাংলাদেশের ইতিহাসের গবেষনায়।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে বাংলাদেশের ইতিহাস লেখতে যে সকল উপকরণ প্রয়োজন তার খুজে তিনি দেশে বিদেশে অনেক স্থান ঘুরে বেরিয়েছেন।

কিন্তু সব উপকরণ সংগ্রহ করতে পারেননি।

উপকরন সংগ্রহের প্রথম বাধা আসে ভাষা জ্ঞানের অভাবে।

তাকে পালি ও সংস্কৃত ভাষার উপর কিছুটা দখল নিতে হয়েছে উপকরণ সংগ্রহের জন্য।

কিন্তু সেটাও পর্যাপ্ত ছিল না।

তারপর তাকে নির্ভরশীল হতে হয়েছে বাংলা ভোগলিক অবস্থানের উপর এবং চতুর্পাশের সংলগ্ন দেশের বিভিন্ন সময়ের সংগৃহীত ঐতিহাসিক ও প্রাগৈতিহাসিক যুগের খনন কাজের উপর।

তিনি ভারতের আসাম, গুহাটি থেকে রাজস্থান পর্যন্ত অনেক প্রত্নতত্ত্বের খবর নিয়ে আদিবাংলার ইতিহাস দুইখন্ড রচনা করেছেন।

উক্ত গ্রন্থে তিনি তিনটি মৌলিক কাজ নিজের প্রচেষ্টায় সক্ষম হয়েছেন, যথা-
(ক) তিন হাজার বছর পূর্বে অস্ট্রিক ভাষাভাষির মানুষের অবয়ব রচনা করেছেন;
(খ) তিন হাজার বছর পূর্বের বর্তমান বাংলাদেশের একটি অবস্থান মানচিত্র রচনা করেছেন এবং
(গ) ঐতিহাসিক স্থাপত্যের অভাবে তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি চারটি বিষয়ের উপর গবেষণা করেছেন, যথা- দ্ব বাংলার মানুষের রক্ত
দ্ব মানুষের অবয়ব
দ্ব ভাষা
দ্ব খাদ্যাভ্যাস
উক্ত উপকরন গুলির সাহায্যে ইতিহাসে তিনি এই প্রথম রচনা করেছেন আদিবাংলার চরিত্র গঠনের ইতিহাস।

গবেষনার নতুন ধারা ও সুত্র তৈরী হল।

এছাড়া ইতিহাসের নতুন সংজ্ঞা রচনা করতে শুধু প্রাচীন পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল হতে হবে না।

এভাবে তিনি ২ খন্ডের আদিবাংলার ইতিহাস সমাপ্ত করেছেন মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাস ৩ খন্ডে রচিত উন্মুক্ত করা হলো।

এই গ্রন্থেও লেখক তার ৩৫ বছরের গবেষনা কর্মে প্রাপ্ত তথ্য ও তত্ত্বের সংমিশ্রনে নতুন কাঠামো মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাস উপস্থাপন করেছেন।

আধুনিক বাংলার ইতিহাস অর্থাৎ ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ এই ১৯০ বছরের গবেষনার কাজও তিনি প্রায় সমাপ্ত করেছেন।

লেখক মরহুম হাজী মোঃ শহিদুর রহমান ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সহায়তা নিয়েছেন।

তার ৩৫ বৎসরের গবেষক জীবনে সরকার বা দাতা সংস্থার কোন সাহায্য গ্রহন করেননি।

লেখকের মত সবই করেছেন তিনি আগামি প্রজন্মের ইতিহাস গবেষকদের সামনে বাংলার ইতিহাসের একটি কাটামো তুলে ধরার জন্য।

কারন এ বিষয়ে তিনি বিশ্বাস করেন প্রচুর মেধা ও শ্রম নিযুক্ত হলে ইতিহাসের আরো অনেক নতুন তথ্য বের হয়ে আসবে।

মরহুম হাজী মোঃ শহিদুর রহমান ইতিহাস গবেষনার পাশপাশি তিনি ইসলাম ধর্মসহ সকল মৌলিক বিষয়ে অনেক দূর্লভ তথ্য উপাত্ত দিয়ে গবেষনা করেছেন।

ইতিমধ্যে তিনি ইসলাম ধর্মের মৌলিক নীতির আলোকে ‘ সূফী তত্ত্বের পটভূমি ও বিস্তার ‘ শীর্ষক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়া , তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ‘সেজদাহ’ প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘ সত্যের সন্ধানে ‘।

ইতিমধ্যে পাঠক সমাজে সমাদৃত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category