জাকির হোসেন
বানারীপাড়া প্রতিনিধি:
বানারীপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও দায়সারাভাবে ‘ভূমি সেবা সপ্তাহ’ উদযাপনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের একটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগকে এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং সেবাগ্রহীতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও বেলা ১১টা ৩০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলে দেখা মেলেনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের। শুধু তাই নয়, যাদের জন্য এই আয়োজন, সেই ভূমি মালিক বা সেবাগ্রহীতাদের তেমন কাউকেই অনুষ্ঠান সম্পর্কে পূর্বে জানানো হয়নি। ফলে অনুষ্ঠানস্থলে জনসাধারণের উপস্থিতি ছিল একেবারেই শূন্য।
স্কুল শিক্ষার্থী দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভূমি সেবা নিতে আসা মানুষের কোনো উপস্থিতি না থাকার সেই শূন্যস্থল পুরন করেছ স্থানীয় একটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষার্থী দিয়ে। দর্শকসারীর প্রথম সাড়িতে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং পিছনের সাড়িতে ৮/১০ জনের স্কুল শিক্ষার্থী দেখা যায়। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অনুষ্ঠানটি এতই সংকীর্ণ এবং চুপিসারে করা হয়েছে, যেন মনে হচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দূরদর্শী প্রোগ্রামটিকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করতেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমন লুকোচুরির আশ্রয় নিয়েছেন। অন্ধকারে নদীর পশ্চিম পারের ৫ ইউনিয়ন সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে। বানারীপাড়ার নদীর পশ্চিম পারের ৫টি ইউনিয়নের হাজার হাজার ভূমি মালিক ও সাধারণ মানুষ জানেনই না যে আজ উপজেলা ভূমি অফিসে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা সপ্তাহ চলছে। প্রচার-প্রচারণার চরম অভাব এবং প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে প্রান্তিক মানুষ এই সেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছেন। অনুষ্ঠানস্থলে আসা একাধিক সচেতন নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ”সরকারের এত বড় একটি উদ্যোগকে বানারীপাড়া ভূমি অফিস কেন এভাবে ঘরের কোণে, চুপিসারে এবং স্কুল শিক্ষার্থী এনে শেষ করতে চাইল? যেখানে সকাল ১০টায় প্রোগ্রাম, সেখানে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এসিল্যান্ড নিজেই উপস্থিত থাকেন না। রাজনৈতিক কিছু অতিথি বৃন্দ ১১/৩০ ঘটিকা পর্যন্ত ভূমি অফিসের এসিল্যান্ড কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় অফিসের সামনে অবস্থান করে চলে এসেছেন। এটা স্পষ্টতই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটা অপচেষ্টা ও দায়িত্বহীনতা।” এদিকে বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছে। ক্লাস অফ রেখে অনুষ্ঠানে আনা হয়েছে এমন প্রশ্নে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানায় এসিল্যান্ড আমাকে ফোন দিয়ে বলছে আমি একটি ক্লাস অফ রেখে শিক্ষার্থী দিয়েছি। এ বিষয়ে একাডেমিক সুপারভাইজার বলেন জয়শ্রীকর বলেন ভূমি অফিসে শিক্ষার্থীদের নেবে এ বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের স্পষ্ট প্রশ্ন—কাদের স্বার্থে এবং কেন এত গোপনে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামটি করা হলো? এই দায়সারা আয়োজনের পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বানারীপাড়াবাসী। এ প্রসংগে সহকারী কমিশনার ভুমি নুসরাত নওসীন বলেন আমি ১১টা ৩০ পর্যন্ত জুমে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অন্যান্য অফিসারের সাথে ছিলাম। প্রশ্ন থেকে যায় ভূমি অফিসের প্রোগ্রামে অনুষ্ঠানের স্থলে উপস্থিত না থেকে নির্বাহী কার্যালয়ে কেন? ৯.৩০ টা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তার ১১/৩০ ঘটিকা পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলে না থাকা দায়িত্ববোধের সম্মান মেনে নিতে পারছেনা উপস্থিত লোকজন। এ প্রসংগে নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদুর রহমানের কাছে এই চুপিসারে প্রোগ্রামের বিষয় এবং ভূমি সেবায় যাদের থাকার কথা তাদের না থাকার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা আমার দপ্তরের প্রোগ্রাম নয়। আমি অতিথি মাত্র।