শিরোনাম
মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী ইউসেপ বাংলাদেশ আয়োজিত চাকুরী মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক জটিলতায় স্থবির সিলেট ইনক্লুসিভ স্কুল, তদন্ত প্রতিবেদনেও মিলছে না সমাধান কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে ডা. বর্ণালী দাশ ইরা’র”লাইট”প্রকল্পর উদ্যোগে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় সাংবাদিকতার আড়ালে কার্ড বাণিজ্য: টাকার বিনিময়ে তৈরি হচ্ছে ‘সাংবাদিক’ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মৌলভীবাজার স্বেচ্ছাসেবক দলে স্বাগত মিছিল দোয়ারাবাজারে কমিউনিটি সেফটি ফোকাল মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত সরকারের বাজেট বনাম গৃহহীন, ভূমিহীন, ভাসমান তাদেরও গুনতে হবে বছরে বিশ হাজার টাকার বেশি জকিগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যানে প্রার্থী হতে চান হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

অগ্নিযুগের নারী বিপ্লবী “আশালতা সেন”-এর ৩৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী।

Satyajit Das / ৭৪৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

Manual7 Ad Code

সত্যজিৎ দাস(স্টাফ রিপোর্টার):

Manual1 Ad Code

ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব, সক্রিয় কর্মী, কবি ও সমাজসেবক এবং অগ্নিযুগের নারী বিপ্লবী।আশালতা সেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দেশের জনগণকে নানাভাবে সাহায্য করেন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে কয়েকটি গানও রচনা করেন। ১৯৭২ সালে তিনি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। আশালতা সেনের বাড়িটি বর্তমানে ‘গেন্ডারিয়া মনিজা রহমান বালিকা বিদ্যালয়’ হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৯৮৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে তার পুত্রের বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

আশালতা সেন বাল্যকাল থেকেই সাহিত্যানুরাগ ছিলেন। ১৯০৪ সালে মাত্র দশ বছর বয়সে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে মাসিক পত্রিকা অন্তঃপুর প্রকাশিত করেন এবং তার জাতীয়তাবাদী কবিতা সুধীসমাজের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার মাতামহী নবশশী দেবীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় আশালতা সেন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন এবং ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে স্বদেশী প্রচারে উদ্যোগী হন। ১৯২১ সালের অযোগ আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ তাকে বিশেষ ভাবে অনুপ্রাণিত করে। তিনি তখন কর্মক্ষেত্রে ঝাপিয়ে পড়েন। ঢাকা গেণ্ডারিয়ায় তার শ্বশুরমহাশয়ের সহায়তায় নিজেদের বাড়ীতে মহিলাদের জন্য ‘শিক্ষাশ্রম’ নামে একটি বয়নাগার তিনি স্থাপন করেন।

Manual3 Ad Code

নারীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা এবং গান্ধীজীর বাণী প্রচার করার লক্ষ্যে তিনি গঠন করেন গেণ্ডারিয়া মহিলা সমিতি। এই সমিতির সদস্যরা নিজেরাই উৎপন্ন দ্রব্য বিক্রয় ও প্রচারকার্য পরিচালনা করতেন। ১৯২৫ সালে তিনি নিখিল ভারত কাটুনী সংঘের সদস্য হন এবং ব্যাপকভাবে খদ্দর প্রচার শুরু করেন। ১৯২৭ সালে ঢাকায় মহিলা কর্মী তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি ‘কল্যাণ কুটির আশ্রম’ স্থাপন করেন। ১৯২৯ সালে গেণ্ডারিয়ার জুরাইনে শিক্ষাবিস্তারের উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জুরাইন শিক্ষা মন্দির’।

Manual3 Ad Code

আশালতা সেনের অসাধারণ সাহসের পরিচয় পাওয়া যায় ১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধীর ‘লবণ আইন’ অমান্য আন্দোলনের সময়। তিনি সরমা গুপ্তা, ঊষাবালা গুহ প্রমুখ সহকর্মীদের নিয়ে নোয়াখালী থেকে কিছু নোনা পানি ঢাকায় এনে সর্বসমক্ষে লবণ তৈরি করে আইন অমান্য আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং বাংলার নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে আন্দোলন সংগঠিত করেন। সে সময় তিনি তার সহকর্মীদের সাথে গ্রেফতার হন।

মহিলাদের আত্মসচেতন ও সংগঠিত করে তোলা ছিল আশালতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি অনুধাবন করতেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধাংশ নারীসমাজ যদি নির্লিপ্ত থাকে,তারা যদি পুরুষদের কাজে সহায়তা না করে তাহলে কোনো আন্দোলনই সফল হতে পারে না। তাই সেসময় তিনি অনেক নারী সংগঠন তৈরি করেন। জাগ্রত সেবিকাদল (১৯৩০, ঢাকা), রাষ্ট্রীয় মহিলা সংঘ (১৯৩১, বিক্রমপুর), নারীকর্মী শিক্ষা কেন্দ্র (১৯৩১, ঢাকা) এবং কংগ্রেস মহিলা সংঘ (১৯৩৯) সেসবের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বিক্রমপুরের বিভিন্ন স্থানে মহিলা সংঘের কয়েকটি শাখাও স্থাপিত হয়। আশালতা রাজনৈতিক জীবনে দুইবার কারাভোগ করেন। ১৯৩২ সালে গান্ধীজীর গ্রেফতারের পর ঢাকায় আইন অমান্য আন্দোলন জোরদার হলে ‘গেণ্ডারিয়া মহিলা সমিতি’কে বে-আইনি ঘোষণা করা হয় এবং ‘কল্যাণ কুটির’-এর কর্মীদের আবাসগৃহ পুলিশ তালাবদ্ধ করে রাখে। এর বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীদের নিয়ে আন্দোলন ও প্রচারকার্য পরিচালনার সময় আশালতা গ্রেফতার হন। এসময় দুটি মামলায় তার সাজা হয়। ১৯৩৩ সালে মুক্তি লাভ করে তিনি ঢাকা জেলার কংগ্রেসের সহ-সভাপতি মনোনীত হন। ১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধীর ভারত ছাড় আন্দোলনে আশালতা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এসময় ঢাকায় পুলিশের গুলিতে এক যুবক নিহত হলে সেই প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে তাঁর সাড়ে সাত মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করেতে হয়।

আশালতা সেন ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৬ সালে তিনি বঙ্গীয় ব্যবস্থা পরিষদ এবং ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। পাশাপাশি তার সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আশালতা সেন এ দেশের জনগণকে নানাভাবে সাহায্য করেন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে কয়েকটি গানও রচনা করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের আমন্ত্রণে তিনি সপরিবারে ঢাকা আসেন এবং ‘গেণ্ডারিয়া মহিলা সমিতির সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
১৯২২ সালে ঢাকা জেলার মহিলা প্রতিনিধিরূপে তিনি ডেলিগেট হয়ে যোগদান করেন গয়া কগ্রেসে। সেই অবধি কংগ্রেসের সঙ্গে তিনি অচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ হন। মহিলাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা এবং গান্ধীজীর বাণী প্রচার করার উদ্দেশ্যে ১৯২৪ সালে তিনি সরমা গুপ্তা ও সরষুবালা গুপ্তার সহযোগিতায় ‘গেণ্ডারিয়া মহিলা সমিতি’ সংগঠন করেন। সমিতির মহিলাগণ নিজেরাই খদ্দরের বোঝ! কাঁধে নিয়ে অনেক দূরে দূরে চলে যেতেন এবং ঘরে ঘরে গিয়ে খদ্দর বিক্রি ও প্রচার কাজ করতেন। ১৯২৫ সালে আশালতা সেন নিখিল ভারত কাটুনী সংঘের (A.I.S.A.) সদস্য হন এবং ব্যাপকভাবে খদ্দর-প্রচারে ব্রতী হন।

আশালতা সেন ১৮৯৪ সালে নোয়াখালী’র এক উকিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বিক্রমপুর এর বিদগাঁও গ্রামে। । তাঁর পিতার নাম বগলামোহন দাশগুপ্ত ও মাতার নাম মানদাসুন্দরী দাশগুপ্ত। পিতা ছিলেন নোয়াখালী জজ কোর্টের আইনজীবী।

Manual7 Ad Code


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code