শিরোনাম
আসহাবে কাহাফের ঈমানদীপ্ত অলৌকিক ঘটনাটি মুসলিম উম্মাহর সামনে তুলে ধরেছেন। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন, উৎসবমুখর আয়োজনে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা সরকার অগোছালো কাজ করেই যাচ্ছে, বিরোধী দল ঘুমে আচ্ছন্ন, সফলতা আসেনি জুলাই যোদ্ধাদের পুলিশের এডিশনাল আইজিপি ডি আইজি সহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে সালমান ওভার সিজের অভিনব প্রতারণার ফাদ সিলেট নিউজে সংবাদ প্রচারে প্রতারক ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে জয়নগর পাওয়ার গ্রিডের গেটে হাজিরা দিচ্ছেন সহকারী শিক্ষিকা নিলুফার ইয়াসমিন দুর্গাপূজার আনন্দ ছড়িয়ে দিতে জৈন্তাপুরে শাড়ি ও চাল বিতরণ মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী (হেলিম): এক কীর্তিমান ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত জীবনী জগন্নাথপুর আনন্দময়ী ও বাদ্য আর অঞ্জলিতে মণ্ডপে মণ্ডপে উদযাপিত হচ্ছে মহানবমী নিয়োগ জালিয়াতি ও চাঁদাবাজিসহ তিনজন শিক্ষকের বেতন বন্ধের মামলায় রানীগঞ্জ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কবিতার নাম : দেশপ্রেমিক ইশরাক
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

অগ্নিযুগের নারী বিপ্লবী “আশালতা সেন”-এর ৩৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী।

Satyajit Das / ৭৭২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

Manual7 Ad Code

সত্যজিৎ দাস(স্টাফ রিপোর্টার):

ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব, সক্রিয় কর্মী, কবি ও সমাজসেবক এবং অগ্নিযুগের নারী বিপ্লবী।আশালতা সেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দেশের জনগণকে নানাভাবে সাহায্য করেন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে কয়েকটি গানও রচনা করেন। ১৯৭২ সালে তিনি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। আশালতা সেনের বাড়িটি বর্তমানে ‘গেন্ডারিয়া মনিজা রহমান বালিকা বিদ্যালয়’ হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৯৮৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে তার পুত্রের বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

আশালতা সেন বাল্যকাল থেকেই সাহিত্যানুরাগ ছিলেন। ১৯০৪ সালে মাত্র দশ বছর বয়সে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে মাসিক পত্রিকা অন্তঃপুর প্রকাশিত করেন এবং তার জাতীয়তাবাদী কবিতা সুধীসমাজের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার মাতামহী নবশশী দেবীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় আশালতা সেন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন এবং ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে স্বদেশী প্রচারে উদ্যোগী হন। ১৯২১ সালের অযোগ আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ তাকে বিশেষ ভাবে অনুপ্রাণিত করে। তিনি তখন কর্মক্ষেত্রে ঝাপিয়ে পড়েন। ঢাকা গেণ্ডারিয়ায় তার শ্বশুরমহাশয়ের সহায়তায় নিজেদের বাড়ীতে মহিলাদের জন্য ‘শিক্ষাশ্রম’ নামে একটি বয়নাগার তিনি স্থাপন করেন।

নারীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা এবং গান্ধীজীর বাণী প্রচার করার লক্ষ্যে তিনি গঠন করেন গেণ্ডারিয়া মহিলা সমিতি। এই সমিতির সদস্যরা নিজেরাই উৎপন্ন দ্রব্য বিক্রয় ও প্রচারকার্য পরিচালনা করতেন। ১৯২৫ সালে তিনি নিখিল ভারত কাটুনী সংঘের সদস্য হন এবং ব্যাপকভাবে খদ্দর প্রচার শুরু করেন। ১৯২৭ সালে ঢাকায় মহিলা কর্মী তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি ‘কল্যাণ কুটির আশ্রম’ স্থাপন করেন। ১৯২৯ সালে গেণ্ডারিয়ার জুরাইনে শিক্ষাবিস্তারের উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জুরাইন শিক্ষা মন্দির’।

Manual8 Ad Code

আশালতা সেনের অসাধারণ সাহসের পরিচয় পাওয়া যায় ১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধীর ‘লবণ আইন’ অমান্য আন্দোলনের সময়। তিনি সরমা গুপ্তা, ঊষাবালা গুহ প্রমুখ সহকর্মীদের নিয়ে নোয়াখালী থেকে কিছু নোনা পানি ঢাকায় এনে সর্বসমক্ষে লবণ তৈরি করে আইন অমান্য আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং বাংলার নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে আন্দোলন সংগঠিত করেন। সে সময় তিনি তার সহকর্মীদের সাথে গ্রেফতার হন।

Manual4 Ad Code

মহিলাদের আত্মসচেতন ও সংগঠিত করে তোলা ছিল আশালতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি অনুধাবন করতেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধাংশ নারীসমাজ যদি নির্লিপ্ত থাকে,তারা যদি পুরুষদের কাজে সহায়তা না করে তাহলে কোনো আন্দোলনই সফল হতে পারে না। তাই সেসময় তিনি অনেক নারী সংগঠন তৈরি করেন। জাগ্রত সেবিকাদল (১৯৩০, ঢাকা), রাষ্ট্রীয় মহিলা সংঘ (১৯৩১, বিক্রমপুর), নারীকর্মী শিক্ষা কেন্দ্র (১৯৩১, ঢাকা) এবং কংগ্রেস মহিলা সংঘ (১৯৩৯) সেসবের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বিক্রমপুরের বিভিন্ন স্থানে মহিলা সংঘের কয়েকটি শাখাও স্থাপিত হয়। আশালতা রাজনৈতিক জীবনে দুইবার কারাভোগ করেন। ১৯৩২ সালে গান্ধীজীর গ্রেফতারের পর ঢাকায় আইন অমান্য আন্দোলন জোরদার হলে ‘গেণ্ডারিয়া মহিলা সমিতি’কে বে-আইনি ঘোষণা করা হয় এবং ‘কল্যাণ কুটির’-এর কর্মীদের আবাসগৃহ পুলিশ তালাবদ্ধ করে রাখে। এর বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীদের নিয়ে আন্দোলন ও প্রচারকার্য পরিচালনার সময় আশালতা গ্রেফতার হন। এসময় দুটি মামলায় তার সাজা হয়। ১৯৩৩ সালে মুক্তি লাভ করে তিনি ঢাকা জেলার কংগ্রেসের সহ-সভাপতি মনোনীত হন। ১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধীর ভারত ছাড় আন্দোলনে আশালতা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এসময় ঢাকায় পুলিশের গুলিতে এক যুবক নিহত হলে সেই প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে তাঁর সাড়ে সাত মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করেতে হয়।

Manual7 Ad Code

আশালতা সেন ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৬ সালে তিনি বঙ্গীয় ব্যবস্থা পরিষদ এবং ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। পাশাপাশি তার সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আশালতা সেন এ দেশের জনগণকে নানাভাবে সাহায্য করেন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে কয়েকটি গানও রচনা করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের আমন্ত্রণে তিনি সপরিবারে ঢাকা আসেন এবং ‘গেণ্ডারিয়া মহিলা সমিতির সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
১৯২২ সালে ঢাকা জেলার মহিলা প্রতিনিধিরূপে তিনি ডেলিগেট হয়ে যোগদান করেন গয়া কগ্রেসে। সেই অবধি কংগ্রেসের সঙ্গে তিনি অচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ হন। মহিলাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা এবং গান্ধীজীর বাণী প্রচার করার উদ্দেশ্যে ১৯২৪ সালে তিনি সরমা গুপ্তা ও সরষুবালা গুপ্তার সহযোগিতায় ‘গেণ্ডারিয়া মহিলা সমিতি’ সংগঠন করেন। সমিতির মহিলাগণ নিজেরাই খদ্দরের বোঝ! কাঁধে নিয়ে অনেক দূরে দূরে চলে যেতেন এবং ঘরে ঘরে গিয়ে খদ্দর বিক্রি ও প্রচার কাজ করতেন। ১৯২৫ সালে আশালতা সেন নিখিল ভারত কাটুনী সংঘের (A.I.S.A.) সদস্য হন এবং ব্যাপকভাবে খদ্দর-প্রচারে ব্রতী হন।

Manual2 Ad Code

আশালতা সেন ১৮৯৪ সালে নোয়াখালী’র এক উকিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বিক্রমপুর এর বিদগাঁও গ্রামে। । তাঁর পিতার নাম বগলামোহন দাশগুপ্ত ও মাতার নাম মানদাসুন্দরী দাশগুপ্ত। পিতা ছিলেন নোয়াখালী জজ কোর্টের আইনজীবী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code