শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা যেনো দিনকে দিন কমতেই চলেছে। সকাল ও সন্ধ্যায় ঘন কুয়াশার জন্য জনজীবন বিপর্যস্ত। শ্রীমঙ্গলে গত দু’দিন ধরে বাড়ছে যেমন শীতের প্রকোপ,তেমনি বাড়ছে ঠান্ডা জনিত রোগীর সংখ্যা। গত দু’দিন দিনের অধিকাংশ সময়ই সূর্য অনুপস্থিত ছিল। আর বিকেল হলেই হিমেল হাওয়াও বইতে থাকে। সবমিলিয়ে প্রকৃতিতে শীতের প্রকোপ বাড়ছে।
মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া অফিস বলছে,আরও কয়েকদিন এরকম ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকবে। ক্রমেই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। মৌলভীবাজারে গত এক সপ্তাহ ধরে ১৪ ডিগ্রি থেকে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠানামা করছে তাপমাত্রা।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলার তাপমাত্রা ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিনে তাপমাত্রা স্থানীয় পর্যায়ে থাকলেও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হতে থাকে। এ সময় ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে বিলম্বে যাতায়াত করছে।অন্যদিকে,কুয়াশা ও শীতের কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা বিপাকে পড়েছে। তারা সময়মতো কাজে যেতে পারছে না। ভোরের দিকে কুয়াশা পড়ে। এ জেলার অধিকাংশ চা শ্রমিক ও দিনমজুর। এ জনপদে গত দুই-তিন দিন ধরে দেখা মিলছে না সূর্যের। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে এই মৌলভীবাজার জেলার মানুষের জনজীবন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে,রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য। যারা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হয়েছেন, তাদের অনেকেই শীতের কারণে বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে ভ্যান চালক, রিকশা চালক,মোটরসাইকেল বা সাইকেলে চলাচল করেন তাদের জন্য কুয়াশা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম অঞ্চলের সড়কগুলোতে হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
মৌলভীবাজারে গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম কাপড় কেনার ধুম পড়েছে। নগরীর বিপনী-বিতাণ থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে চলছে শীতের কাপড় কেনাবেচা। পাইকারি বাজারগুলোতেও একই অবস্থা। প্রতিদিন বিকেল থেকেই গরম কাপড়ের দোকানে ভীড় জমান ক্রেতারা দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যুৎ পাল বলেন,কয়েকদিন থেকে শীত ও ঠান্ডা অনেক বেড়েছে। রাতে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ে। শীতের কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। কাজ না করলে তো আর সংসার চলবে না।
সেবক দেব বলেন,জমিতে শাক সবজিসহ আলু ও সরিষা লাগিয়েছি। কুয়াশার কারণে কিছু দেখা যাচ্ছে না। বৃষ্টির মতো পড়ছে শিশির। ঠান্ডার কারণে জমিতে যেতে ভয় লাগছে। এভাবে চলতে থাকলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
দিনমজুর রহিম বলেন,আজ খুব কুয়াশা পড়েছে। ঘুম থেকে উঠেই কাজের জন্য বের হয়েছি। কাজ ছাড়া কোনো উপায় নেই আমাদের।
শহরের বাসিন্দা আবেদ হোসেন বলেন,এবার শীত খুব বেশি পড়বে বলে মনে হচ্ছে। কারণ প্রতিদিন সন্ধ্যা নামতেই শীতের প্রকোপ বেড়ে যায় মধ্যরাত থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে পুরো এলাকা। তাই এবার মৌসুমের শুরুতেই শীতের কাপড় কিনতে হয়েছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার পর্যবেক্ষক মোঃ মুজিবুর রহমান জানান,আজ বুধবার জেলায় তাপমাত্রা ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকেই তাপমাত্রা উঠানামা করছে। আগামী আরও দুই একদিন তাপমাত্রা এরকমই থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিলেট নিউজ/এসডি.