বিশেষ প্রতিনিধি:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) হেলথ সিস্টেম স্কোরিং (HSS) ও ২০২৬ সালের সর্বশেষ সরকারি পারফরম্যান্স মূল্যায়নে সিলেট বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রসূতি ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা,২৪ ঘণ্টার জরুরি চিকিৎসা,নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব এবং দক্ষ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। একই সঙ্গে দেশের ৪৯০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে ছাতকের অবস্থান ১১তম।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মূল্যায়নে সিলেট বিভাগের উপজেলা হাসপাতালগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
জানা গেছে,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আফরিনের নেতৃত্বে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। বিশেষ করে স্বাভাবিক প্রসব,জরুরি সিজারিয়ান,দক্ষ মিডওয়াইফ সেবা এবং ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি চিকিৎসা কার্যক্রমে হাসপাতালটি বিভাগের অন্য উপজেলা হাসপাতালগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
হাওর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেও ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণে সফলতা দেখিয়েছে। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসব বাড়ানোর উদ্যোগও হাসপাতালটির অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আফরিন বলেন,“আমার কাছে কোনো রোগই ছোট বা বড় নয়। প্রত্যেক রোগীই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী যেসব ওষুধ পাওয়া যায়,সেগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
হামের সংক্রমণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে কাজ করছি। একই সঙ্গে সবাইকে সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে,মূল্যায়নে তৃতীয় স্থান অর্জন করা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রশংসিত হয়েছে। চা-বাগান এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মা ও শিশুদের জন্য হাসপাতালটিতে ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারি ও জরুরি সিজারিয়ান সেবা চালু রয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণ এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসব বৃদ্ধিতেও হাসপাতালটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন,“প্রত্যন্ত চা-বাগান ও গ্রামীণ এলাকার মা ও শিশুদের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সীমিত জনবল ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও চিকিৎসক,নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্য,শিশুস্বাস্থ্য এবং জরুরি চিকিৎসাসেবাকে আরও কার্যকর ও মানবিক করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন,“জনসচেতনতা বৃদ্ধি,নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি এবং সময়মতো হাসপাতালে এসে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অনেক জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। জনগণের সহযোগিতা পেলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা যাবে।”
এদিকে,২০২৬ সালের জুলাই মাসে সরকারের গৃহীত বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সিলেট বিভাগের ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ,বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ ও কানাইঘাট এবং মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভাগের আরও কয়েকটি হাসপাতাল। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং জেলা হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান,সীমিত জনবল নিয়েও রোগীদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক,নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ করা হলে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান আরও সমৃদ্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করবেন।
সিলেট নিউজ২৪/এসডি.